ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে এই রুল জারি করা হয়।
বুধবার (৬ মে) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২৩ এপ্রিল, যখন রিটার্নিং কর্মকর্তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। কারণ হিসেবে বলা হয়, সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য নন। পরবর্তীতে ২৬ এপ্রিল তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন, কিন্তু শুনানি শেষে সেই আপিলও খারিজ হয়ে যায়।
এরপর ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদন করেন মনিরা শারমিন। সেই রিটের শুনানি শেষ হয় বুধবার, যেখানে আদালত বিষয়টির আইনগত ব্যাখ্যা চেয়ে রুল জারি করেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাসেদুল ইসলাম জনি।
এর আগে একই রিট আবেদন প্রথমে অন্য একটি হাইকোর্ট বেঞ্চে উঠলেও বিচারিক নৈতিকতার কারণে সেটি শুনানি থেকে বাদ দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, আবেদনকারী ও একজন বিচারপতির গ্রামের এলাকা একই হওয়ায় বেঞ্চটি শুনানি থেকে সরে দাঁড়ায়। পরে মামলাটি নতুন বেঞ্চে স্থানান্তর করা হয়।
আইনজীবীদের মতে, হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে এখন নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হলো। তবে পরবর্তী শুনানিতে বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা চলছে। এনসিপি সমর্থকরা বলছেন, প্রার্থিতার যোগ্যতা নিয়ে ব্যাখ্যার সুযোগ থাকা উচিত ছিল। অন্যদিকে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন সংক্রান্ত যোগ্যতা নির্ধারণে কমিশনের সিদ্ধান্ত ও আইনের ব্যাখ্যাই এখানে মূল বিষয়।