দেশজুড়ে হাম ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা থামছেই না। নতুন করে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ২ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। একই সময়ে ১ হাজার ৬৫৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা পরিস্থিতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বুধবার (৬ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃতদের মধ্যে ৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সংক্রমণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৮ জনে। এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৯ জন। একইসঙ্গে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৪৪ হাজার ২৬০ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩০ হাজার ৮৮৫ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৭ হাজার ২২৩ জন। তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে চাপ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। একইসঙ্গে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। এক কর্মকর্তা জানান, “হামের বিস্তার রোধে দ্রুত শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ।”
পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, ফুসকুড়ি বা হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।