মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন বলেছেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে এর একক কৃতিত্ব নিতে চেয়েছিল। বিভিন্ন অপকর্ম আড়াল করতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে তারা। তিনি বুধবার বিকালে মুন্সীগঞ্জ জেলার বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যারা এখন প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি রয়েছে তাদের কি ভূমিকা ছিলো ১৯৭১ সালে ? সেটা যদি কেউ বিশ্বাস না করতে চায় তাহলে তখনকার পেপার পত্রিকা কাটিংগুলো দেখলেই বুঝা যাবে তখন তাদের কি ভূমিকা ছিলো। যারা বাংলাদেশর বিপক্ষে ছিলো, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা পাক সেটা চায় নাই, যারা নিজ দেশের মানুষ উপর অস্ত্র হাতে ঝাপিয়ে পড়েছিলো। পাক হানাদার বাহিনী তাদেরকে সহযোগিতা করে হত্যাযঝ্গে মেতে উঠেছিলো। ধর্ষনের মতো অপকর্ম করেছিলো আজকে তারা এখন এসেছে সংসদে। এটার ব্যর্থতার দায় আমাদের সবাইকেই নিতে হবে। বাংলাদেশকে যারা চায়নি, স্বাধীনতা বিরোধী যারা রয়েছে তারা কোনদিনও বাংলাদেশকে দখল করে তাদের মতো করে দখল করে নিয়ে যেতে পারবে না। যতো দিন আমরা জীবিত আছি, আমরা এই লড়াইটা চালিয়ে যাবো। আপনারা যেভাবে ১৯৭১ সালে লড়াই করেছিলেন সেটা চলমান রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছর যে ফ্যাসিবাদী সরকার ছিলো তারা দেশকে লুটপাট করেছে। তারা ভুয়া চারটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাকে দখল করে রেখেছিলো। জনগনের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে, মুক্তিযুদ্ধকে ফেরি করে এখানে একদল লুটেরা তারা তাদের স্বার্থ সিদ্ধ করেছে। তাদের সকল অপকর্মকে বৈধতা দেয়ার জন্য এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাকে দখল করে রাখার জন্য তারা প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করেছে। তারা তাদের প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিপক্ষের শক্তি বিভাজন করে রেখেছিলো, যার কারণে আমরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। যা সর্বশেষ ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান দেখেছি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, গুম, খুন, হত্যা, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক এমন কোনো অপরাধ নেই যা আওয়ামী লীগ সরকার করেনি। ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকারও তারা কেড়ে নিয়েছে।
ইশরাক হোসেন বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মুক্তিযুদ্ধের সঠিক মূল্যায়ন বিএনপি-ই করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তার আন্তরিকতা সবচেয়ে বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিগত সরকারের সময় অ-প্রাপ্তবয়স্ক ও অ-মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্ত করা, বীর নিবাস নির্মাণে অনিয়ম এবং মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি না করার অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম, জোলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম ইরাদত, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুবের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান, আবু বক্কর মাদবর প্রমূখ। পরে প্রতিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি গজারিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সও পরিদর্শন করেন।