২২ জুন সাক্ষ্যগ্রহণ

১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৭ মে, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় তোফায়েল আহমেদের বিচার শুরু

দুই যুগ আগের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়েছে। ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালত অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ জুন দিন ধার্য করেছেন। একইসঙ্গে মামলায় পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন। আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। আদালতে এদিন তোফায়েল আহমেদের পক্ষে আইনজীবী মো. খায়ের উদ্দিন শিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মামলার অন্য দুই আসামি হলেন ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশাররফ হোসেন। এর মধ্যে মোশাররফ হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুইজন পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এই মামলার সূত্রপাত ২০০২ সালে। তখনকার দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তোফায়েল আহমেদ ও তার সহযোগীরা সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। উদ্দেশ্য ছিল অর্থ গোপন করা এবং অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ আড়াল করা।

তদন্ত শেষে তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ সময় মামলার কার্যক্রম স্থগিত ছিল। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আদালতের নির্দেশে মামলাটি আবার কার্যকর হয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

আসামি তোফায়েল আহমেদের শারীরিক অবস্থার বিষয়টিও এদিন আদালতে উঠে আসে। তার আইনজীবী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ এবং স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আবেদনে দাবি করা হয়, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন। তবে আদালত বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জানান, “মামলাটি বহুদিনের পুরোনো। এখন আর পেছানোর সুযোগ নেই, বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।”

এ নিয়ে মামলাটির ভবিষ্যৎ গতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে আইনজীবী মহলে। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা এই মামলায় এবার বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে