টানা তিন দফা মূল্যবৃদ্ধির পর অবশেষে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। বৃহস্পতিবার (৭ মে) নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে সংস্থাটি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে লিটারে দাম কমেছে ২১ টাকা ৬৩ পয়সা।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য শুল্ক ও মূসকমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ৪৮০৬ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার করা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, নতুন এই মূল্যহার বুধবার (৬ মে) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
চলতি বছরের শুরুতে জেট ফুয়েলের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার পর জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের বাজারেও।
জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা। ফেব্রুয়ারিতে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সায়। পরে মার্চে প্রথম দফায় দাম বাড়িয়ে করা হয় ১১২ টাকা ৪১ পয়সা। একই মাসের ২৪ মার্চ আবারও বড় ধরনের সমন্বয়ে দাম পৌঁছে যায় ২০২ টাকা ২৯ পয়সায়। এরপর এপ্রিল মাসে আরও বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় ২২৭ টাকা ৮ পয়সা।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত প্ল্যাটস রেট, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন বিবেচনায় নিয়েই নতুন এই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ের গড় প্ল্যাটস রেট বিশ্লেষণ করে মে মাসের জন্য নতুন দর ঠিক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এলসি সেটেলমেন্টে ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেল দামের পরিবর্তনের কারণে কোস্টাল ট্যাংকার ও ট্যাংক লরির পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।
জেট ফুয়েলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এর আগে উদ্বেগ জানিয়েছিল এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। মার্চে বড় ধরনের দাম বাড়ানোর পর সংগঠনটি সেই সিদ্ধান্তকে “অযৌক্তিক” বলেও মন্তব্য করেছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সর্বশেষ এই মূল্যহ্রাসে অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।
নতুন মূল্যহার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কক্সবাজার বিমানবন্দর এবং যশোর বিমানবন্দরে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।