দুই মাস পর

শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমি জামিনে মুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
| আপডেট: ৭ মে, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম | প্রকাশ: ৭ মে, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
শাহবাগে ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার ইমি জামিনে মুক্ত

রাজধানীর শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বাজানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল সংসদের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রায় দুই মাস কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে কারামুক্ত হন।

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার জানান, জামিনের কাগজপত্র যাচাই শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ইমিকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তার জামিন মঞ্জুর হলে দীর্ঘ অপেক্ষার পর মুক্তির পথ খুলে যায়।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৭ মার্চ রাতে। শাহবাগ থানার সামনে রিকশায় মাইক নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়। সেই সময় সেখানে উপস্থিত কিছু শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ইমি ও তার সহযাত্রীরা বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে থানার ভেতরে নেওয়া হয়।

পরদিন ৮ মার্চ তাকে এবং আরও দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। মামলায় অভিযোগ আনা হয়, তারা উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়েছেন এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন। যদিও ইমির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করা হয় এবং বিষয়টি রাজনৈতিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।

আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে ৩০ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এর পরবর্তী ধাপে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে তিনি মুক্তি পান।

ইমির কারামুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহা. নোমান হোসাইন। তিনি এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ। কারামুক্ত ইমি, পাশে থাকা সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।”

ঘটনাটি ঘিরে তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে শাহবাগ এলাকায় ঘটে যাওয়া ওই রাতের ঘটনা বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি করে।

এদিকে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। তবে জামিনে মুক্তির পর ইমির স্বাভাবিক জীবনে ফেরা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজনৈতিক অঙ্গনে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে