রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬নং সাজেক ইউনিয়নের দূর্গম শুকনো ছড়া এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে ইউপিডিএফ প্রসীত দলের সদস্য হেগেরা চাকমা নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। শনিবার (৯মে) ভোর ৬ টা ৫০ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম হেগেরা চাকমা (লেত্তবাপ)। ঘটনার সংবাদ পেয়ে সাজেক থানার আওতাধীন ১০নং পুলিশ ফাঁড়ির সদস্য ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন।
জানা যায়, রাঙ্গামাটির সাজেকের মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের শুকনোছড়া এলাকায় সকালে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান নেয়। এ সময় হেগেরা চাকমাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। হেগেরা চাকমা পালানোর চেষ্টা কালে প্রতিপক্ষের গুলিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
স্থানীয়রা জানায়, নিহত হেগেরা চাকমা এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসিত) এর কালেক্টর (শুকনাছড়ি এলাকার কালেক্টর) নামে পরিচিত। অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানায় তারা। এই ঘটনায় এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাঙ্গামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার সংবাদ জেনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়েছে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে বিস্তারিত জানা যাবে। এদিকে সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা এই হতাহতের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিবৃতিতে ইউপিডিএফ নেতা হেগেরা চাকমা হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে রাঙ্গামাটির সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ির সাজেক ইউনিয়নে ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে লেত্তবাপকে (৫০) গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপ। আগামী সোমবার (১১ মে) দীঘিনালা-সাজেক-বাঘাইছড়ি সড়কে আধবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শনিবার দুপুরে সাজেকের উজো বাজারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এব্যাপারে সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ, পার্বত্য চট্টগ্রামের দূর্গম এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভাতৃঘাতি সংঘাত চলমান রয়েছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রায়ই গুলি, অপহরণ, হত্যা ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।