নৈতিক মূল্যবোধের ঘাটতির কারণে জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। রোববার (১০ মে) রাজধানীর ড্যাফোডিল টাওয়ারে বাংলাদেশ ছাত্র কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্বৃত্ত সংস্কৃতি সমাজকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া, কিন্তু সেখানে কাজের জন্য কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। এ ঘাটতি সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও বড় বাধা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, “রাষ্ট্র এখনো অনেক ক্ষেত্রে এনালগ কাঠামোর মধ্যে রয়েছে, যেন বাটন ফোনের মতো সীমাবদ্ধ অবস্থায় আছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য কার্যকর নীতিমালা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, সরকার রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোকে ডিজিটালাইজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ও নীতিমালার অভাব প্রসঙ্গে একই দিনে রাজধানীর ডেফোডিল ভবনে আরেকটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সচেতনতা তৈরি এবং মূল্যবোধ গঠনে সোশ্যাল মিডিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর ব্যবহার এখনো নিয়ন্ত্রণহীন। এ কারণে তরুণদের জন্য ইতিবাচক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের ওপর জোর দেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, একটি উন্নত সমাজ গঠনের জন্য মৌলিক নীতিমালা অপরিহার্য, যা রাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি মনে করেন, নৈতিক সংকটের কারণে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
একই অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে পরিবর্তনের আশা করা হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। জনগণের মানসিক পরিবর্তন না হলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।”
আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা স্বাধীন শিক্ষা কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা পাঠ্যক্রমে নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন, যাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে ওঠে।
শিক্ষা, নৈতিকতা এবং ডিজিটাল নীতিমালার এই আলোচনায় বক্তারা একমত হন যে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণ ও ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।