নকল ও ভেজাল পণ্য

কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

এফএনএস | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
কঠোর নজরদারি প্রয়োজন

দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক গভীর সংকট নকল ও ভেজাল পণ্য। প্রতিদিনের কেনাকাটায় ভোক্তা যখন দোকানে যায়, তখন সে ধরে নেয় যে তাকের পণ্যগুলো নিরাপদ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সেই আস্থার জায়গাটিই ভেঙে পড়েছে। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহার্য সামগ্রী- সব ক্ষেত্রেই নকলের দাপট এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে আসল পণ্যকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই অবৈধ বাজারের আকার ছোট নয়। কয়েক হাজার কোটি টাকার সমান্তরাল অর্থনীতি তৈরি হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যারা নিয়ম মেনে উৎপাদন করেন, তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন। বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে, কর্মসংস্থান কমছে, আর শিল্পোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থাৎ নকল পণ্যের বিস্তার শুধু ভোক্তার ক্ষতি নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকেও দুর্বল করছে। ওষুধের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও ভয়াবহ। কম দামের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ নকল ওষুধ কিনতে বাধ্য হয়, অথচ এর ফলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করেছেন যে ভেজাল ওষুধের বিস্তার দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হলো? এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ। প্রথমত, নজরদারির ঘাটতি- সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা সীমিত, আধুনিক ল্যাব সুবিধার অভাব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, আইনের দুর্বলতা- শাস্তি সাধারণত অল্প জরিমানায় সীমাবদ্ধ থাকে, ফলে অপরাধীরা নতুন কৌশলে আবারও বাজারে ফিরে আসে। তৃতীয়ত, ভোক্তার অসচেতনতা- অনেকে আসল-নকলের পার্থক্য বুঝতে পারেন না বা কম দামের কারণে নকল পণ্য কিনে ফেলেন। সমাধান তাই একক কোনো পদক্ষেপে সম্ভব নয়। প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দক্ষতা বাড়াতে হবে, কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ভোক্তাদের সচেতন করতে হবে এবং বাজারে আসল পণ্য সহজলভ্য করতে হবে। একই সঙ্গে বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নাগরিক দায়িত্ববোধ। যখন মানুষ সচেতন ভোক্তা হয়ে উঠবে, তখনই তারা অবৈধ পণ্যকে প্রত্যাখ্যান করবে। আর রাষ্ট্র যদি কঠোর নজরদারি ও কার্যকর আইন প্রয়োগে অটল থাকে, তবে এই অবৈধ বাজারের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমানো সম্ভব। নকল পণ্যের বিরুদ্ধে লড়াই তাই শুধু আইন প্রয়োগের বিষয় নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে রক্ষার লড়াইও।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে