বাজারে আসতে শুরু করেছে সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু

এফএনএস (ফজলে রাব্বী সোহেল; সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১০ মে, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
বাজারে আসতে শুরু করেছে সোনারগাঁয়ের রসালো লিচু

মৌসুমের শুরুতেই সোনারগাঁয়ে রসালো লিচু বাজারে ক্রি শুরু হছে। গাছে গাছে ঝুলে থাকা লালচে ফল লিচু, চারপাশজুড়ে কৃষকদের ব্যস্ততা এবং পাইকারদের ভিড়ে পুরো এলাকা এখন মৌসুমি উৎসবে পরিণত হয়েছে। এবার অতিমাত্রায় খড়ার কারনে লিচুর উৎপাদন তেমন ভালো না হওয়ায় বাগানীদের লোকসানও গুনতে হতে পারে বলে জানাগেছে।

প্রয়োজণীয় সময়ে বৃষ্টি না হওয়ার কারনে এবছর বহু লিচু ফুল ও কড়া লিচু ঝড়ে পড়ে গেছে। ফলে লিচুর আকার ছোট হয়ে যায়। গাছে লিচু টিকিয়ে রাখতে কৃষকরা বাগানে সেচ, সার ও কিটনাসক প্রয়োগের কারনে খরচ পরেযায় বেশী। এদিকে রোদের তীব্রতার কারনে লিচু আগাম পেকে যাওয়ায় সময়ের আগেই বিক্রির জন্য লিচু বাজারে চলে আসে।

সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ তারেক জানান, সোনারগাঁয়ে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২৭২টি লিচু বাগান রয়েছে। এবছর ১১৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছিলো। তবে চাষ হয়েছে ১১০ হেক্টর জমিতে। আশা করা হচ্ছে টাকার হিসাবে এবছর প্রায় ৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। কারন এবার আগাম ফলন হওয়ায় লিচুর দামও অনেক বেশী। বাজার অনুপাতে প্রতিটি লিচু ৫/৬ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম আরও বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সোনারগাঁয়ের লিচু মৌসুমের শুরুতেই বাজারে আসে। সে কারনে গ্রাহকের কাছে এই লিচুর চাহিদা থাকে বেশি। স্থানীয় মতে, প্রায় ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে পর্তুগিজদের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ে প্রথম লিচু চাষের সূচনা হয়। পর্তুগিজ বণিকদের হাত ধরে আনা এই ফল প্রথমে সীমিত পরিসরে চাষ হলেও ধীরে ধীরে তা বিস্তৃতি পায়। সময়ের পরিক্রমায় এখন এটি পুরো অঞ্চলের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। সোনারগাঁয়ে প্রধানত পাতি, কদমী ও বোম্বাই (চায়না-৩) জাতের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। মৌসুমের শুরুতে পাতি লিচু বাজারে আসে। এরপর বাজারে আসে কদমী এবং বোম্বাই লিচু। আকারে বড় ও রসালো হওয়ার কারনে বোম্বাই লিচু স্থানীয়দের কাছে ‘দিলীকা লাড্ডু’ নামে পরিচিত। বাগান গুলোতে দেখাগেছে, থোকায় থোকায় রসালো পাকা লিচু ঝুলছে। লালচে ফলের এসব দৃশ্য পুরো এলাকা রঙ্গীন সাজে সেজেছে। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে রয়েছে চাষিদের কঠোর পরিশ্রম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী সোনারগাঁয়ের প্রায় ৮৫টি গ্রাম লিচু চাষের জন্য পরিচিত। গোয়ালদী, হরিষপুর, দুলালপুর, পানাম, গাপতলী, খাসনগর দিঘীরপার, চিলারবাগ, ইছাপাড়া, দত্তপাড়া, কৃষ্ণপুরা হাতকোপা, অজুন্দীসহ বিভিন্ন এলাকায় সবচেয়ে বেশি লিচুবাগান রয়েছে। এসব এলাকার প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের বাগানে লিচু চাষ হয়। রাইজদিয়া গ্রামের লিচুবাগান মালিক ইকবাল জানান, বর্তমানে এলাকায় বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ বৃষ্টির কারণে লিচুর কিছুটা ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফল ফেটে যায়, লিচুতে পোকার আক্রমণ হয়, পচন ধরে এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। লিচু পাকার পর বৃষ্টি হওয়ায় অনেক লিচু গাছেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। লিচু চাষি আবুল মিয়া জানান, বাজারে লিচুর দাম তুলনামূলক বেশি। ১’শ লিচু ৫’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকা, বোম্বাই লিচু ৪’শ টাকা থেকে ৫’শ টাকা এবং পাতি লিচু ৪৫০ টাকা থেকে ৫’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরবরাহ ও ফলনের ওপর ভিত্তি করে দাম আরও বাড়তে পারে। কুমিল্লা থেকে আসা দুই বন্ধু আসিফ  ও সজিব বলেন, সোনারগাঁয়ের লিচুর ঐতিহ্য আছে তাই আমরা প্রতি বছর লিচু খেতে আসি।