দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও বাজারে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় মৌসুমের শুরুতেই লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে ধান চাষের খরচ বাড়লেও সেই তুলনায় বাজারদর কম থাকায় চরম হতাশায় রয়েছেন কৃষকরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, অধিকাংশ মিলারের গুদামে পর্যাপ্ত এলসি চাল মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার আগ্রহ কম। ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও কম। বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১৪ হাজার ১৮৬ হেক্টর জমিতে জিরাশাইল, ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৯২, ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-১৬, বিনা ২৫, হাইব্রিডসহসহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করা হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯৫ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টন। ইতোমধ্যে ধান কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে।
কৃষকদের দাবি, এবার আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বাজার দরে ধান বিক্রি করে প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। উপজেলার পারইল কুদবীর এলাকার কৃষক পাত্রাস মার্ডী জানান, বর্গা নিয়ে চার বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে দুই বিঘার ধান কেটে ৭৫ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ১৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। এতে বিঘা প্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সাড়ে ৪ বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে প্রতি বিঘায় ৩৫ মণ করে চিকন (মিনিকেট) ধান পেয়েছেন। পলিশিবনগর এলাকার কৃষক ইউসুফ আলী জানান, তিনি ১১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। তার মতে, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ৩-৪ মণ ধান কম উৎপাদন হচ্ছে এবং দামও কম। এতে কৃষকরা ব্যাপক লোকসানে পড়েছেন। তিনি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ফুলবাড়ী উপজেলার সেনড়া এলাকার ধান ব্যবসায়ী সৈয়দ খাদেমুল ইসলাম বলেন, মোটা ধান ৭৫ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা ১৫০০থেকে ১৬০০ টাকা, বিআর-২৮ জাতের প্রতিবস্তা ১৮৫০ থেকে ১৯০০ টাকা, চিকন মিনিকেট ২১০০ টাকা এবং ৯০ জিরা জাতের ৩৫০০ টাকায় কেনা হচ্ছে। দাম কম হওয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, মোকান থেকে এর বেশি দামে ধান নিচ্ছে না বলেই ধানের দাম বাড়ছে না। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। এবার প্রতি বিঘায় গড়ে ৩৪ থেকে ৩৫ মণ ফলন হচ্ছে। বোরো ধান কাটতে কৃষিশ্রমিকের পাশাপাশি হারবেস্টার মেশিন দিয়েও ধান কাটাই-মাড়াই চলছে। আকাশের অবস্থা ভালো না থাকায় কৃষকরাও দ্রুত তাদের খেতের ধান গোলাই তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।