সড়কে মৃত্যুমিছিল থামছে না কেন

এফএনএস
| আপডেট: ১১ মে, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম | প্রকাশ: ১১ মে, ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
সড়কে মৃত্যুমিছিল থামছে না কেন

দেশের সড়কে প্রাণহানির ঘটনা এখন যেন এক স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনের দুর্ঘটনার খবর মানুষের মনে সাময়িক উদ্বেগ তৈরি করলেও সামগ্রিক পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন ঘটছে না। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪০৪ জন। আহত হয়েছেন আরও শত শত মানুষ। এ সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি জীবিকা এবং বহু স্বপ্নের অবসান। প্রতিবেদনটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার উচ্চ হার। মোট নিহতের প্রায় ২৮ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে পথচারী নিহতের সংখ্যাও অত্যন্ত বেশি। এটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে দেশের সড়কব্যবস্থা এখনো সব ধরনের ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ হয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালনা, হেলমেট ব্যবহারে অনীহা এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তবে সমস্যাটিকে কেবল চালকের অসচেতনতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে পুরো বাস্তবতা বোঝা যাবে না। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, অপরিকল্পিত সড়কব্যবস্থা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা একে আরও জটিল করেছে। অনেক ক্ষেত্রে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা ও লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে নিয়ম না মেনেও অনেক যানবাহন সড়কে চলাচল করছে। উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো, দুর্ঘটনার বড় অংশই ঘটছে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে। অর্থাৎ যেসব সড়ক দেশের যোগাযোগব্যবস্থার মূল ভিত্তি, সেগুলোও নিরাপদ নয়। একই সঙ্গে সকালে দুর্ঘটনার হার বেশি হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে কর্মব্যস্ত সময়ে সড়ক নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক আইন প্রয়োগে কঠোরতা, গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক সংস্কারে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। পাশাপাশি পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত, ফুটওভার ব্রিজ এবং মহাসড়কে আলাদা সার্ভিস রোড নির্মাণও জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, সড়ক নিরাপত্তাকে কেবল পরিবহন খাতের সমস্যা হিসেবে নয়, জননিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখতে হবে। কারণ প্রতিটি দুর্ঘটনা শুধু একটি প্রাণহানি নয়, অর্থনীতি ও সমাজের ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করে। তাই সড়কে মৃত্যুমিছিল থামাতে এখন আর কেবল আলোচনা নয়, কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে