দেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্প ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যমুনা ও পদ্মা সেতুর ইতিহাস ও রাজনৈতিক ভূমিকা। সোমবার (১১ মে) শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতু এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, যমুনা সেতু নির্মাণের মতো পদ্মা সেতুর উদ্যোগও তাদের সময়েই শুরু হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর বড় প্রকল্পগুলোর ভিত্তি ধাপে ধাপে বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, পদ্মা সেতুর প্রাথমিক ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছিল বিএনপি সরকারের সময়, আর পরবর্তী সরকার সেটি বাস্তবায়ন করে।
পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই উদ্যোগ আরও আগেই নেওয়া উচিত ছিল। তার মতে, “এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ইতিহাসের দলিল হবে। পদ্মা সেতুর পেছনের গল্প জানতে পারবে সাধারণ মানুষ।”
জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণকে কেন্দ্র করেও গুরুত্বারোপ করেন সেতুমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগানো নয়, সেগুলোর সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করাও জরুরি।
একই অনুষ্ঠানে তিনি দেশের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অতীত সরকারের সময়ের নানা অনিয়ম ও ব্যয়ের বিষয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তার দাবি অনুযায়ী, “মেগা প্রকল্পের নামে বড় অঙ্কের অর্থ অপচয় হয়েছে, অনেক প্রকল্পের কাজ শেষ হয়নি, আবার কিছু প্রকল্প বিদেশি ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মো. আব্দুর রউফ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান, শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে জাজিরা প্রান্তে একটি পৃথক আলোচনা সভায়ও অংশ নেন সেতুমন্ত্রী, যেখানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল।