মূল্য না পাওয়ায় কুরবানির চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমী মাদরাসা

এফএনএস (এইচ এম শহিদুল ইসলাম; সিলেট) :
| আপডেট: ১১ মে, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম | প্রকাশ: ১১ মে, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
মূল্য না পাওয়ায় কুরবানির চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমী মাদরাসা

কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চলতি বছর কুরবানির চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে সিলেট বিভাগের কওমী মাদরাসাগুলো। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয় বিক্রয়মূল্যের চেয়ে বেশি হওয়ায় এটি মাদরাসাগুলোর জন্য আর্থিক বোঝায় পরিণত হয়েছে। সোমবার (১১ মে) নগরীর সোবহানিঘাটস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সিলেট বিভাগীয় কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ। সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সদস্য সচিব মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কওমী মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে কোরআন-হাদিসের শিক্ষা বিস্তারের পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান ও লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মুসলিম সমাজের দান-সদকা, মৌসুমি চাঁদা ও কুরবানির পশুর চামড়া এসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস।

তিনি বলেন, অতীতে ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-শিক্ষকদের সমন্বয়ে চামড়া সংগ্রহ করে গরিব ফান্ড গঠন করা হতো। সেই অর্থ দিয়ে এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের কয়েক মাসের খাদ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। কিন্তু চামড়া শিল্পে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে বর্তমানে চামড়ার বাজার ধসের মুখে পড়েছে। ফলে চামড়া বিক্রি করে পরিবহন ব্যয়ও ওঠে আসে না।  সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনও দৃশ্যমান হয়নি। গত বছর কওমী মাদরাসাগুলোকে কাঁচা লবণ সরবরাহের উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ও অকার্যকর’ উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হলে আগে দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে।

মাওলানা মুস্তাক আহমদ খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায়ও চামড়া শিল্পের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় কওমী মাদরাসা কর্তৃপক্ষ হতাশ হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ঈদুল আজহায় সিলেট বিভাগের কওমী মাদরাসাগুলো কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না। তবে ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পে ইতিবাচক পরিবর্তন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এতিম ও গরিব শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বক্তারা আরও বলেন, কুরবানির পশুর চামড়া মূলত গরিব ও এতিমদের হক। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা সহায়তায় কওমী মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তাদের দাবি, কুরবানির সময় মোট চামড়ার প্রায় ৭১ শতাংশ কওমী মাদরাসার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। তাই দ্রুত চামড়া খাতের সিন্ডিকেট ভেঙে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও এতিম ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সমাজের বিত্তবান ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে আগের মতো সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী, মাওলানা মঞ্জুর আহমদ, মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ, মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী, মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ অনেকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে