শিশু শ্রম বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেই

এফএনএস
| আপডেট: ১২ মে, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম | প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
শিশু শ্রম বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেই

শিশুরাই আগামীর দেশ ও জাতি গড়ার কারিগর। কিন্তু শ্রমের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে শিশুদের দুরন্ত শৈশব এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারের অতলে হারিয়ে যায়। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে শিশুশ্রম একটি ভয়াবহ সমস্যা। যে বয়সে একটি শিশু বই হাতে নিয়ে বিদ্যালয়ে দুরন্ত শৈশব অতিবাহিত করার কথা সে বয়সে তাকে ইটভাটা বা শিল্প-কারখানায় মানবেতর শ্রম দিতে হচ্ছে। সব ক্ষেত্রে শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও ঘর থেকে বের হলে দেখতে পাওয়া যায় শিশুশ্রমের করুণ চিত্র। হোটেল, মোটেল, লঞ্চ, বাস, ইটভাটা, পাথরভাঙা, মোটর গ্যারেজ, অ্যালুমিনিয়াম কারখানা, কল-কারখানা, বাসাবাড়ি, মিষ্টি ও বিস্কুট ফ্যাক্টরি, তামাকশিল্প, চামড়াশিল্প, চা-শিল্প, ভারীশিল্প ইত্যাদিতে প্রতিনিয়ত দেখা যায় শিশুশ্রমের নির্মম চিত্র। দারিদ্র্যের নির্মম কশাঘাতে জর্জরিত পরিবারের সন্তানরা দুবেলা-দুমুঠো ভাত মুখে দেওয়ার জন্য নিরুপায় হয়ে শিশুশ্রমে জড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিশুশ্রমের প্রথম ও প্রধান কারণ হলো ‘অর্থনৈতিক দুরবস্থা’। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মতে, শিশুশ্রম হলো এমন কাজ যা একটি শিশুর বয়স এবং কাজের ধরব অনুসারে ন্যূনতম সংখ্যক ঘণ্টা অতিক্রম করে। আইএলওতে কর্মক্ষেত্রে শিশুদের সম্পর্কিত তিনটি বিভাগ রয়েছে: অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় শিশু, শিশুশ্রম এবং বিপজ্জনক কাজ। ১২ বছরের কম বয়সী বা বিপজ্জনক কাজ করলে শিশুকে শিশুশ্রমিক হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। শিশুরা তাদের শারীরিক, মানসিক বা উন্নয়নমূলক স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার ক্ষতি করতে পারে এমন কার্যকলাপে জড়িত থাকলে বিপজ্জনক কাজ করার জন্য শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। ইউনিসেফ শিশুশ্রমকে সংজ্ঞায়িত করেছে এভাবে, যা শিশুর স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে প্রভাবিত করে। আরো বলা হয়েছে যে শিশুশ্রম এমন একটি কাজ, যা শৈশব কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করে, শোষণ এবং অপব্যবহার করে। ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রাম অন দ্য এলিমিনেশন অব চাইল্ড লেবার কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় শিশুদের সংজ্ঞায়িত করে ‘গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের আনুষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে বেতনভুক্ত এবং অবৈতনিক কাজ’। এ সংজ্ঞা তাদের নিজের বাড়িতে কাজ করা শিশুদের বাদ দেয়। প্রধানত দুটি খাতে বাংলাদেশে শিশুশ্রম বিরাজমান; ১. আনুষ্ঠানিক খাত যথা: শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা, জাহাজ ভাঙা ইত্যাদি। ২. অনানুষ্ঠানিক খাত; যথা: কৃষি, পশুপালন, মৎস্য শিকার/মৎস্য চাষ, গৃহকর্ম, নির্মাণকর্ম, ইটভাঙা, রিকশাভ্যান চালনা, মজুর, ছিন্নমূল শিশু ইত্যাদি। শিশুশ্রম কেবল বাংলাদেশের সমস্যা নয়, এটি পুরো বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ, যা শুধু আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার সুযোগ সমপ্রসারণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব দেশকে এ সংকট মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও সংগঠনকে নিজ নিজ দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে হবে, যাতে প্রতিটি শিশু তার শৈশবের স্বপ্ন বাঁচাতে পারে এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারে।