পাইকগাছায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

এফএনএস (মহানন্দ অধিকারী মিন্টু; পাইকগাছা, খুলনা) : | প্রকাশ: ১২ মে, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
পাইকগাছায় গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ

খুলনার পাইকগাছায় কপিলমুনি ইউনিয়নে নাছিরপুর ভাড়াবাড়ীতে মাদকাসক্ত কর্তৃক গৃহবধূকে জোর পূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি উপজেলার নাছিরপুর পালপাড়া রোডে পীযুষ মন্ডলের দ্বিতলা বাড়িতে। বাড়ির মালিক নিজ বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দারতলায় থাকেন। ধর্ষক ভাড়াটিয়া নাছিরপুর গ্রামের অশোক সাধু ওরফে নাটোর ছেলে মৃত্যুঞ্জয় সাধু(৪২)। ভিকটিম বেলি ছদ্মনাম(২৫) একই উপজেলার লতা ইউনিয়নের বাসিন্দা। স্বামী এনজিও চাকরি সূত্রে একই বাসায় ভাড়া থাকতেন। কিছু দিন আগে বদলি হওয়ায় অন্য জেলায় থাকেন। ভিকটিম বিউটিপার্লালে কাজ শিখতেন। ধর্ষক ও ভিকিটিম দোতালায় পাশাপাশি রুমে ভাড়াটিয়া। সাংবাদিকের কাছে ভিকটিমের ভিডিও স্বীকারোক্তিঃ গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ঘরে তালা দেওয়া সময়ে পিছন দিক থেকে ওড়না দিয়ে মুখ চেপে ধর্ষকের রুমে নিয়ে স্প্রে করে ধর্ষণ করে। এ-র আগে এক দিন ধর্ষক মৃত্যুঞ্জয় ফোন করে বেলিকে বলে আমার বৌ বাসায় নেই তুমি আমার জন্য রান্না করো। আপনার জন্য রান্না করবো কি জন্য। রাতে এসে খাবো, তোমার সাথে কিছু কথা আছে। আমি বুঝতে পারছি কোনো কিচ্ছু আছে। রাত ১২টা ১টায় নিচে বাসায় আসে না। আমি রান্না করেনি। এর কিছু দিন পরে মৃত্যুঞ্জয় ফোন দিয় ভিকটিমকে বলে আমার দোকানের সামনে দিয়ে যাও, ঘুরেও তাকাও না। কি জন্য তাকাবো? পার্লারে যাবো, রুমে তালা দিচ্ছি হাতে বাটি বগলে ব্যাগ, পিচ্ছন দিক থেকে ওড়না দিয়ে মুখ চেপে উচ করে ধরে পাশে ধর্ষকের রুমে নিয়ে মুখে স্প্রে দিয়ে অপকর্ম করে। চিৎকার করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তখন সকাল ৯টা। পাশে রুমে অন্য এক এনজিও কর্মী সকাল ৮টায় বের হয়ে যায়। ওখান থেকে বেরিয়ে পার্লারে যেয়ে সর্ব প্রথম আমার স্বামীর কাছে ফোন করি। আমার কান্না শুনে মনে করছে ঠাকুর মার কিছু হয়েছে। পরে ঘটনার কথা শুনে ও কান্না করে। আমার মার কাছে ফোন করে। মৃত্যুঞ্জয় এর স্ত্রী পুত্র বাসায় ছিল না। ধর্ষকের স্ত্রী মুক্তি সাধুর সাথে কথা হয়েছে-সে বলে বেলি, যা করেছে তোমার দাদা কে ক্ষমা করে দাও, কালকে একটু নেশা করে এসেছে, ঐ সব করে ফেলেছে, ভুল করে ফেলেছে, তোমার পা ধরে ক্ষমা চাইবে, তুমি ক্ষমা করে দাও। ভিকটিম বলে তা হলে ভিডিও করলো কেন, স্প্রে করলো, ক্ষমা করা যায়? আপনার সাথে হলে ক্ষমা করতে পারতেন? আমার সাথে হলে কারো জানতে দিতাম না, তুমি তো সবাইকে জানিয়ে দিয়েছো। এতো বড় ঘটনা আমি কারো সাথে বলবো না? ধর্ষকের স্ত্রী বলছে আমার স্বামীর সাথে সম্পর্ক, ১০ হাজার টাকা দেয়নি তো। এদিকে ধর্ষণের ভয়ে বাসা ছেড়েছে অন্য ভাড়াটিয়া সহ ভিকটিম! স্প্রে ও ধর্ষণ আতঙ্কে এলাকার মহিলারা। বাড়ি মালিক পীযুষ মন্ডল বলেন, আমি ঘটনা শুনেছি। ২ দিনের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিবে। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপোক আলোচিত হলেও প্রশাসনের কোনো ভূমিকা লক্ষ করা যায়নি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে