নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন রেলপথ। এ দাবিতে ইতোমধ্যে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়েছে। তবে বহুদিন ধরেই সেই স্বপ্ন যেন অধরাই রয়ে গেছে। এবার জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন সমপ্রসারণের উদ্যোগে নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। এ লক্ষ্যে ১৩ মে ২৬ বুধবার সরেজমিন পরিদর্শনে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। এ সময় আরও উপস্থিত থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাইমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। জানা গেছে, বুধবার দুপুরে তারা জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করবেন। পরে ঐ রেলস্টেশন থেকে দুর্গাপুর উপজেলা পর্যন্ত রেললাইন সমপ্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিকেলে পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম কাম কমিউিনিটি সেন্টারে সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
স্থানীয়রা জানান, দুর্গাপুর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য লীলাভূমি। কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে রেল যোগাযোগ এ অঞ্চলে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। রেল যোগাযোগ চালু হলে ঢাকা থেকে সরাসরি নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হবে। অতীতে একাধিকবার আশার আলো দেখানো হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশ ছিলেন স্থানীয়রা। তবে রেললাইন সমপ্রসারণের প্রস্তাবনা পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় আবারও আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা। স্থানীয় ব্যবসায়ী তাকদির, সাদাত,মামুন নয়ন শাহ আলম,বিনয় ,সজল বলেন, ব্যবসায়ীদের জন্য রেললাইন হবে আশীর্বাদ। বর্তমানে সড়কপথে মালামাল আনতে গিয়ে অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। ট্রেনে যাতায়াত নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ব্যবসায়িক খরচ কমবে এবং সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও হ্রাস পাবে। আরেক ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, আমরা যুগ যুগ ধরে রেললাইনের অপেক্ষা করছি। জারিয়া থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৪ কিলোমিটার রেললাইন সমপ্রসারণ হলেই সরাসরি ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হতে পারব।
শিক্ষার্থীদের মাঝেও এ নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অসংখ্য শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শিগগিরই ময়মনসিংহে কলেজে ভর্তি হব। দুর্গাপুর থেকে সরাসরি ট্রেন চালু হলে যাতায়াত অনেক সহজ ও আরামদায়ক হবে। এটি শুধু আমার নয়, দুর্গাপুরের সব শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার খুলে দেবে।
ক্ষুদ্র ন-ৃগোষ্ঠী হাজং সমপ্রদায়ের একজন বলেন, রেল চালু হলে আমরা কম খরচে ঢাকা ও ময়মনসিংহে যাতায়াত করতে পারব। বর্তমানে বাসে যাতায়াতে অতিরিক্ত খরচ হয়, রেলপথ চালু হলে তা অনেকটাই কমে আসবে। এটি সাধারণ মানুষের জন্য বড় সুবিধা হবে।
অ্যাডভোকেট এম এ জিন্নাহ বলেন, শুনেছি আজ থেকে শতাধিক বছর আগেও শ্যামগঞ্জ থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত রেললাইন আনার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু কোনো এক মহলের বাঁধার কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। মানুষ দীর্ঘদিন ধরে রেলপথের দাবি জানিয়ে আসছে। এবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের খবর দুর্গাপুরবাসীকে আবারও নতুন স্বপ্ন পূরণ করতে পারে।