কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দৃষ্টিনন্দন ফটক নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) ফটকের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো: খালেদ সাইফুল্লাহ খান ভিপি সোহেল।
গত ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম শোলাকিয়া ঈদের জামাতে লাখো মুসল্লির সামনে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পরবর্তী ঈদের জামাতের আগেই ঈদগাহ ময়দানে একটি আকর্ষণীয় ফটক নির্মাণ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, বিএনপি নেতা মাসুদুল হাসান, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন, কিশোরগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিপি সাইফুল মালেক চৌধুরী, শোলাকিয়া মাঠের ইমাম মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ, সর্বস্তরের জনগণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। বক্তারা মাঠের ঐতিহ্য তুলে ধরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পরামর্শ প্রদান করেন। জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল গুরুত্ব সহকারে তাদের পরামর্শ শুনেন এবং ভবিষ্যতে আরো সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য উন্নয়নমূলক কাজ অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন ঈদের জামাতস্থল। কিশোরগঞ্জ শহরের পূর্ব প্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত প্রায় ৭ একর আয়তনের এই ঈদগাহে ২৬৫টি কাতারে লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
জানা যায়, ১৭৫০ সালে প্রথম ঈদের জামাত শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৮২৮ সালে বৃহৎ আকারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ প্রায় দুই শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী এই ঈদগাহে প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করে থাকে।