সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই
ফাইল ছবি

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন মারা গেছেন। বুধবার (১৩ মে) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল। বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে চট্টগ্রাম-১, মীরসরাই আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণেতাদের অন্যতম সদস্যও ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মেয়াদে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্বে ছিলেন।

১৯৪৩ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার ধুম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মোশাররফ হোসেন। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল ও স্যার আশুতোষ সরকারি কলেজে পড়াশোনা শেষে লাহোরের ইঞ্জিনিয়ারিং ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি নেন। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর থেকেই তার নামের সঙ্গে ‘ইঞ্জিনিয়ার’ শব্দটি স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

ছাত্রজীবনেই তিনি ছয় দফা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনের নেতৃত্ব দেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বাদ আসর মীরসরাই উপজেলার মহাজনহাট ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায়ও একটি জানাজা হওয়ার কথা থাকলেও সময় ও স্থান তখনও চূড়ান্ত হয়নি।

রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ও যুক্ত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। কক্সবাজারে তার বাবার প্রতিষ্ঠিত হোটেল সায়মন সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখেন তিনি। এছাড়া চট্টগ্রামের চার তারকা হোটেল ‘পেনিনসুলা চিটাগাং’-এর চেয়ারম্যান ছিলেন।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর তাকে রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে ২০২৫ সালের আগস্টে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পান।

তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ চট্টগ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে