দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জনের নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৩ মে, ২০২৬, ০১:৪১ পিএম
দুই দশকের আইনি লড়াই শেষে ২৭তম বিসিএসের আরও ৯৬ জনের নিয়োগ

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২৭তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ আরও ৯৬ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মাধ্যমে নিয়োগবঞ্চিতদের একটি বড় অংশ নতুন করে সরকারি চাকরিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেলেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২৭তম বিসিএস পরীক্ষা-২০০৫ এর প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এসব প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী তারা ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতনক্রমে চাকরিতে যোগ দেবেন।

নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী রোববার (১৮ মে) সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগ দিতে অনাগ্রহী বলে বিবেচিত হবেন এবং তার নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে।

একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা রক্ষার স্বার্থে তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকেই ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ কার্যকর ধরা হবে। তবে এ কারণে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।

২৭তম বিসিএসকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই দশক ধরে আইনি জটিলতা চলছিল। ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি বিএনপি সরকারের সময় প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সেখানে ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। পরে ওই বছরের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সেই ফল বাতিল করে দ্বিতীয়বার মৌখিক পরীক্ষা নেয়।

ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণরা। দীর্ঘ শুনানি ও আপিলের পর গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রথম বড় প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাকি নিয়োগ প্রক্রিয়াও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে