ভারতের উত্তর প্রদেশে ভয়াবহ ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও প্রবল বৃষ্টিপাতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আঘাত হানা এই দুর্যোগে গাছ উপড়ে পড়ে, দেয়াল ধসে এবং ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রয়াগরাজসহ রাজ্যের একাধিক জেলা।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ের তাণ্ডবে অন্তত ১০৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ, আর শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধারকাজেও দেখা দেয় জটিলতা।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, ঝড়ের সময় হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে যায়, এরপর শুরু হয় প্রবল বাতাস ও শিলাবৃষ্টি। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বহু এলাকা পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। রাস্তার গাছ, বিলবোর্ড ও টিনের ঘর উড়ে গিয়ে আঘাত হানে মানুষের ওপর।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রয়াগরাজ শহর ও আশপাশের অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, গাছ পড়ে এবং দেয়াল ধসে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। কোথাও কোথাও দোকানপাট ও ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝড়ের সময় মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে পুরো এলাকা অন্ধকারে ঢেকে যায়। সোনভদ্র জেলার বাসিন্দা অশোক রাজ বলেন, “প্রায় আধাঘণ্টা পুরো এলাকা অন্ধকার ছিল, বাতাসে ধুলো আর ধ্বংসাবশেষ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল।”
বেরেলি জেলার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রবল বাতাসে একটি টিনের কাঠামো উড়ে গিয়ে একজন ব্যক্তিকে আঘাত করে। তিনি আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।