বাংলার শৈশবের একটি জনপ্রিয় খাবার তাল শাঁস। তবে এটি বিশুদ্ধ মিনারেল আর বেশ কিছুটা কার্বহাইড্রেট সমৃদ্ধ গ্রাম্য একটি ফল। বাংলার পরিচিত তাল গাছ। আর এই কাঁচা তালেই পাওয়া যায় শাস । তাল পাকলে, কোয়াগুলি বড় হয়ে পূর্ণাঙ্গ তালের আঁটিতে পরিণত হয়। তাই আষাঢ় মাসে তাল পাকার আগেই তালের কোয়াকে সম্বল করে জমজমাট একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। আর এই মেলাটি বসে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামে। বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবার থেকে মেলা শুরু হয় আর চলে টানা ৪দিন। প্রথম দিন আনন্দমহি কালিপুজা উৎসব হয়। সারা রাত ব্যাপী পুজা অর্চনা আরতি,যাত্রা অনুষ্ঠান। জানা গেছে, ১৫০ বছরের ও বেশি সময় ধরে উত্তর মুরারিকাটি গ্রামের রাজবংশী সম্প্রদায়ের উদ্যোগে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সাতক্ষীরা সহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রচুর তাল শাঁস ব্যবসায়ীরা আসেন এই মেলায়। তাদের কাছ থেকে জানা গেছে, 'তালগাছ থেকে কাঁচা তাল কেটে এনে তা থেকে কোয়া ছাড়িয়ে এই মেলায় শাস বিক্রি করে থাকেন। উল্লেখ্য, সারা বাংলাদেশ সহ ভারত থেকে মায়ের পুজা দেখতে আসেন।ভক্তরা ভরে সারারাত উৎসবে সামিল হয়। কমিটির সভাপতি নির্মল মন্ডল জানান, এই মেলা উৎসব চলছে ১৫০ বছর ধরে। মেলায় ২৫-৩০ জন মানুষের মানতের ওজনে প্রসাদ বিতারণ করা হয়। প্রথম দিনই ১০০ মনের অধিক বাতসা বিতরণ করা হয়। দুই দিনব্যাপী চলে যাত্রা অনুষ্ঠান। আর মঙ্গলবারে শুরু শুক্রবারে শেষ। শেষ দিনে সকালে শিতলা পুজা ও রাতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমা বিসর্জন। মেলা চলে ৪দিন। তাল শাঁস বা তাল মেলা বলে পরিচিত এই মেলা রীতিমতো সবদিনেই থাকে জমজমাট। মুলত- মুরারিকাটির দক্ষিণপাড়া কালী মন্দির প্রাঙ্গনে এই উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এই তালের মেলাটি সার্বিক পরিচালনায় থাকে কমিটির সভাপতি নির্মল মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক শম্ভু মন্ডল, কোষাধাক্ষ আশীষ পোদ্দার, দীনবন্ধু মণ্ডল, সম্ভু সরকার, রনজিত মন্ডল, গণেশ মণ্ডল, প্রশান্ত পোদ্দার, গোবিন্দ মন্ডল, ভক্ত ডাঃ সুদর্শন হোড় মাস্টার সহ আরো অনেকে।