গজারিয়ায়

জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, নারীসহ আহত ৫

এফএনএস (মোঃ আমিরুল ইসলাম নয়ন; গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ) :
| আপডেট: ১৫ মে, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম | প্রকাশ: ১৫ মে, ২০২৬, ০৮:০০ পিএম
জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে সশস্ত্র হামলা, নারীসহ আহত ৫

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢ়ুকে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  মঙ্গলবার বিকেলে চালানো এই হামলায় একই পরিবারের সোবাহান (৩০), রমজান(২৫), সাঈদ(২৩) ইয়াসমিন(৫০) ও প্রতিবেশী জীবন নেছা (৬০)সহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।

খবর নিয়ে জানা যায়, আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মাইন উদ্দিন প্রধানের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী জাকির হোসেন ও শামসুল সরকার গংদের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত সোমবার স্থানীয় আমিনের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ ভূমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করা হলেও জাকির হোসেন গং তা মেনে না নিয়ে হুমকি প্রদান করে। এর পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে জাকিরের হোসেনের শাওন ও  শামসুল হকের ছেলে মুসার নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী মেঘনা উপজেলা থেকে আসা অন্তত ৪০-৪১ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী মাইন উদ্দিনের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বগি দা, রাম দা ও লোহার পাইপ নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করে গালিগালাজ শুরু করলে তার ভাই লতিফ প্রধানের ছেলেরা বাধা দিতে যায়। এসময় সন্ত্রাসীরা লতিফ প্রধানের বড় ছেলে সোবাহানকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে কোপ মারলে তার ডান পা গুরুতর জখম হয়। এছাড়া রমজান ও সাঈদকে নামে লতিফ প্রধানের অপর দুই ছেলেকে লোহার পাইপ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে থেঁতলানো জখম করা হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে প্রতিবেশী বৃদ্ধা জীবন নেছা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারলে তার মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে তার মাথায় ৪টি সেলাই পড়ে। আহতদের বাঁচাতে এগিয়ে আসা ইয়াসমিনকেও সন্ত্রাসীরা লাঞ্ছিত ও মারধর করে। হামলার সময় পরিবারের লোকজন প্রাণভয়ে পালিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢ়ুকে আলমারি ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। 

ঘটনার ভুক্তভোগী মাইন উদ্দিন বলেন, 'ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা এলাকায় মহড়া দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে স্থানীয় জনতা ধাওয়া দিয়ে এক বহিরাগত সন্ত্রাসীকে হাতেনাতে আটক করে। পরবর্তীতে লুটেরচর গ্রামের মাতব্বর মুকবুল গাজী ও গরিব হোসেন বিচারের আশ্বাস দিয়ে তাকে জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে ১১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০-৪১ জনকে বিবাদী করে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।' এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের জাকির হোসেন বলেন, 'আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা তাদের মারধর করেনি বরং তারা আমাদের উপর হামলা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।' থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, ' এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে