একজন প্রধান শিক্ষকের অবসর

বিদায় অনুষ্ঠানে দাপ্তরিক কাগজপত্র নিয়ে হাজির ডিপিইও

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৫ মে, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
বিদায় অনুষ্ঠানে দাপ্তরিক কাগজপত্র নিয়ে হাজির ডিপিইও

পটুয়াখালীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত ব্যাতীক্রমধর্মী বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলো। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সরকারী গাড়ীতে করে প্রধান শিক্ষককে তার বাড়ীতে পৌছে দিয়ে নতুন এক দিগন্তের সৃস্টি করলেন নবাগত শিক্ষা কর্মকর্তা। এমন নতুনত্ব গণতান্ত্রিক বিদায়াচরণে উৎসাহ আর আনন্দে উদ্বেলিত জেলার প্রাথমিক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

স্বাভাবিক ভাবে সরকারী চাকুরী থেকে অবসরের ছুটি প্রস্তুত হওয়ার পর  অবসরপ্রাপ্তকে সংশ্লিস্ট কাগজপত্র গুছিয়ে যোগাযোগ করতে হয় উপজেলা কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা কর্মকর্তার কাছে। আর এর ব্যাতিক্রম হলো এবার পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ১২১ নং বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, প্রধান শিক্ষক  মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম এর শেষ কর্মদিবসে  বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিদায় অনুষ্ঠানের। ওই শিক্ষকের অবসর প্রস্তুতির কাগজপত্রাদি নিয়ে অনুষ্ঠানে হাজির হন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মাসুদ করিম।

প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম দীর্ঘ জীবনের চাকুরীতে অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সাথে শিক্ষকতার পাশাপশি একজন গুনী শিক্ষক হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাউফল উপজেলার ২০০৫,২০০৮.২০১২ সালে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে সম্মাননা অর্জন করেন। পাশাপশি ২০১৩ সালে  উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব প্রধান শিক্ষক  হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।  তিনি ২০০০, ২০০৪ ও ২০২০ সালে কাবের জাতীয় পর্যায়ে সমাবেশে অংশগ্রহন করেন । একজন গুনী শিক্ষক হিসেবে কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৫ সালে সরকারীভাবে শ্রীলংকা শিক্ষা সফরের সুযোগ পান মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম।

গতকাল শেষ বিকেলে বগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোহিনূর বেগম এর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম এর সহকর্মী সহ বিদ্যালয়ের কোমলমতী শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর এক অশ্রুসজল পরিবেশের মধ্য দিয়ে বিদায় দেয়া হয় তাকে। প্রত্যেকেই তুলে ধরেন কোহিনূর বেগম এর গৌরবজ্জল ভূমিকার কথা। কাজী  বাউফল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান রিপন এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান  অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মাসুদ করিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগা ডা: ইয়াকুব শরীফ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ  মো: হুমায়ুন কবির, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: জাকির হোসেন, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাউফল সৈয়দ মনিরুজ্জামান ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক  মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম কর্মকালের প্রশংসা করেন এবং শেষ কর্মদিবসে  তার এ উপস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, যে কাজের জন্য অফিসে যেতে হয়, পিআরএল মঞ্জুর জনিত অফিসিয়াল সেই কাজটি আমি আপনাদের সামনে করে দিলাম। তার অবসরের দাপ্তরিক কাজের জন্য আর  অফিসে যেতে হবেনা। পরবর্তিতে সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগমকে সম্মান জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মাসুদ করিম তার সরকারী গাড়ীতে করে নিজেই চালকের আসনে বসে কোহিনূর বেগমকে তার  বাড়িতে পৌছে দিয়ে আসেন।

এদিকে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এ ধরনের দায়িত্বশীল ও মানবিক কাজের প্রশংসা করে পটুয়াখালীর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলেন, এটি একটি সাহসী উদ্যোগ। পাশাপশি সরকারী গাড়ীতে করে একজন পিআরএল প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার চাকুরী জীবনের শেষ দিনে বাড়িতে পৌছে দিয়ে যে সম্মানটি দিয়েছেন এটি একটি প্রশংসনীয় ও নজির হয়ে থাকবে পটুয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মাসুদ করিম আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ কোহিনূর বেগম যেদিন থেকে অবসর যাত্রা শুরু করেছেন, সেই দিনেই তার অবসরের রেডি কাগজ  হাতে পৌছে দিয়ে নতুন একটি উদ্যোগ শুরু করতে পেরে আনন্দিত। নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের দৃষ্ঠিভঙ্গি মতে, কাউকে যেন কোন কাজে কখনো ভোগান্তি পোহাতে না হয়। সেই চিন্তা থেকে আমি এ কাজটি শুরু করেছি, আগামীতে এটি অব্যাহত থাকবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে