সারাদেশে ঈদুল আজহার আমেজ এখনো কাটেনি। টানা সাত দিনের লম্বা ছুটিতে রাজধানী ঢাকা এখনো সম্পূর্ণ শান্ত ও কোলাহলমুক্ত রূপ ধরে রেখেছে। চিরচেনা সেই যানজট, হর্নের আওয়াজ আর মানুষের হুড়োহুড়ি যেন সাময়িকভাবে উধাও হয়ে গেছে।
আজ শনিবার (৩০ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা খুবই সীমিত। কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা ছাড়া গণপরিবহনের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় যাতায়াতে অন্যরকম এক স্বস্তি মিললেও বিপাকে পড়েছেন পরিবহন শ্রমিকেরা। তারা জানান, রাস্তায় পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় প্রতিটি ট্রিপেই অর্ধেকের বেশি সিট খালি রেখে বাস চালাতে হচ্ছে।
মিরপুর রুটের ‘পরিস্থান পরিবহন’-এর বাসের এক হেলপার মিজান বলেন, "মানুষ এখনো গ্রাম থেকে ফেরেনি। গত ৩-৪ দিন ধরে রাস্তায় কোনো যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছে না, একটি ট্রিপও পুরো ভর্তি করে ছাড়তে পারিনি।" একই অবস্থা গুলশান-বাড্ডা রুটের ‘আলিফ পরিবহন’-এরও। বাসের কর্মীরা জানান, সাধারণ সময়ের তুলনায় এখন চার ভাগের এক ভাগ যাত্রীও পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, চলমান সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পর চলতি সপ্তাহের মাঝামাঝি নাগাদ মানুষ ঢাকা ফিরতে শুরু করবে এবং তখনই রাজধানী আবার তার চেনা ব্যস্ততায় ফিরবে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়েছে। ঈদযাত্রা সহজ করতে মূল ছুটির সাথে ২৫ মে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের অবকাশ পেয়েছেন। ফলে সিংহভাগ মানুষ এখনো ঢাকার বাইরে থাকায় পুরো নগরী জুড়েই এই নীরবতা বিরাজ করছে।