ফিফা বিশ্বকাপে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় আসর। ৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে অনুষ্ঠিত হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। ১১ জুন থেকে শুরু করে ১৯ জুলাই পর্যন্ত- ৪০ দিন ব্যাপি অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্বকাপ আসর।
যদিও বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিশ্বব্যাপি সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছিল, খেলার দেখার বিষয় নিয়ে। তথ্য-প্রযুক্তির এই উৎকর্ষতার যুগে ডিজিটাল মাধ্যমে কিভাবে সরাসরি বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করা যায়- সে উপায় খুঁজছিলেন ফুটবল ভক্তরা।
এবার সে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার সমর্থিক ক্রীড়া মিডিয়া প্রতিষ্ঠান লাইভমোড উদ্যোগ নিয়েছে ইউটিউবে বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচই সরাসরি সম্প্রচারের। এমনকি সেটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, অর্থ্যাৎ ফ্রি।
কিন্তু এর সঙ্গে জুড়ে দেয়া হয়েছে একটি বড় শর্ত। ব্রাজিলের জনপ্রিয় ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম কেজটিভি (ঈধুবঞঠ) বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচ ইউটিউবে ফ্রিতে সম্প্রচার করবে। এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে শুধুমাত্র ব্রাজিলের দর্শকদের জন্যই। বিশ্বের অন্য কেউ এই সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন না।
রোনালদো-সমর্থিত ক্রীড়া মিডিয়া প্রতিষ্ঠান লাইভমোড (খরাবগড়ফব) সম্প্রতি কেজটিভির সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলা রোনালদো এই ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছেন। এরপরই নিশ্চিত করা হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপের সব ম্যাচ ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখানো হবে।
ভারতীয় উপমহাদেশে এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপ সম্প্রচারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও ব্রাজিলের দর্শকরা বড় সুখবর পেয়ে গেলেন। কারণ, কেজটিভি শুধু ইউটিউব নয়, টুইচ প্ল্যাটফর্মেও বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সম্প্রচার করবে।
২০২২ সালে ব্রাজিলিয়ান ইউটিউবার ও স্ট্রিমার ক্যাসিমিরো মিগুয়েলের হাত ধরে লাইভমোডের সহযোগিতায় যাত্রা শুরু করে কেজটিভি। কাতার বিশ্বকাপের সময় নির্বাচিত কিছু ম্যাচ সম্প্রচার করেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় প্ল্যাটফর্মটি। এরপর তারা ফিফা নারী বিশ্বকাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, অলিম্পিক গেমস এবং দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট সম্প্রচার করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আরও বড় পরিকল্পনা করেছে কেজটিভি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্রাজিলের দর্শকদের জন্য তারা ৪কে (৪ক) মানের খেলা সম্প্রচার করবে। পাশাপাশি থাকবে ম্যাচের বাইরের নানা আয়োজন, বিহাইন্ড-দ্য-সিন কনটেন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং তরুণ দর্শকদের আকৃষ্ট করতে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন।
তবে ব্রাজিলের বাইরের দর্শকদের জন্য রয়েছে হতাশার খবর। প্রযুক্তিগতভাবে ভিন্ন কোনো দেশ থেকে কেউ ইউটিউব বা টুইচে কেজটিভির চ্যানেল খুলতে পারলেও লাইভ ম্যাচ দেখা সম্ভব হবে না। কারণ, বিশ্বকাপের ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব শুধুমাত্র ব্রাজিল অঞ্চলের জন্য কিনেছে লাইভমোড ও কেজটিভি। ফলে ব্রাজিলের বাইরে ম্যাচগুলো জিও-ব্লকড বা অঞ্চলভিত্তিকভাবে সীমাবদ্ধ থাকবে।
এদিকে ভারতের বাজারে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে এগিয়ে রয়েছে জি নেটওয়ার্ক। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জি তাদের স্পোর্টস চ্যানেল ও জি-ফাইভ অ্যাপের মাধ্যমে বিশ্বকাপের সব ১০৪ ম্যাচ সম্প্রচারের দৌড়ে সবার সামনে রয়েছে।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে জি ইতোমধ্যে ‘ইউনাইট৮ স্পোর্টস’ নামে নতুন ক্রীড়া সম্প্রচার উদ্যোগ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এর অধীনে চারটি আলাদা স্পোর্টস চ্যানেল চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব পেতে ফিফার সঙ্গে ৩ থেকে ৩.৫ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করতে পারে জি। এক দশকেরও বেশি সময় পর আবারও ক্রীড়া সম্প্রচার জগতে শক্তভাবে ফিরতে বিশ্বকাপকেই সবচেয়ে বড় মঞ্চ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।