খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন সততা, স্বচ্ছতা ও দেশপ্রেমের এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নেতাকর্মীদের মানুষের কল্যাণে এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আমাদেরও মানবিক হতে হবে। জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, জনগণ নেতার কাছে আসার অপেক্ষা না করে নেতাকেই আগে জনগণের কাছে ছুটে যেতে হবে।স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিরলসভাবে কাজ করেছেন। তিনি দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে শতাধিক খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যখন আন্তর্জাতিক মহলের কেউ কেউ বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অবহেলা করেছিল, তখন জিয়াউর রহমান দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, এ দেশের কোটি কোটি মানুষের কর্মশক্তিই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী মহান নেতা ছিলেন জিয়াউর রহমান। তাঁর আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতিফলন আজ বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। তিনি জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। তিনি জনগনের মাঝে মিশে একাকার হয়ে তাদের সমস্যাগুলো নিরসন করছেন।
তিনি বলেন, রূপসার খাল ও জলাধারগুলো জনগণের সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এগুলো দখল করে রাখতে পারবে না। খাল উন্মুক্ত রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে। জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। যারা এসব অনিয়মের পক্ষে অবস্থান নেবে বা জনগণের অধিকার হরণের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রূপসা ঘাটের বিভিন্ন সমস্যা ও জনভোগান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পূর্ব রূপসা ঘাটে যাত্রীদের হয়রানি ও অতিরিক্ত টোল আদায় খুব দ্রুত দূর করা হবে। ট্রলার মাঝি ও সংশ্লিষ্টদের যাত্রীদের সঙ্গে ভদ্র ও মানবিক আচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বরদাশত করা হবে না।
তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঘরে বসে থেকে শ্রমজীবী মানুষ, ট্রলার চালক, ভ্যানচালক কিংবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা যাবে না। বিএনপির মতো স্বচ্ছ ও গণমুখী দলে কোনো দুর্নীতিবাজ বা অসাধু ব্যক্তির স্থান নেই। এসব অপশক্তিকে প্রতিহত করতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। বাসচালকের যেমন ক্ষুধা লাগে, তেমনি মাহেন্দ্রচালক ও ভ্যানচালকেরও ক্ষুধা লাগে। তাই পূর্ব রূপসা ঘাটে কেউ কারও ওপর অন্যায়-অত্যাচার করতে পারবে না। ক্ষমতা কখনোই চিরস্থায়ী নয়। সবল হয়ে দুর্বলের ওপর জুলুম করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। যারা অতীতে আমাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার করেছে, তাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব পোষণ করা যাবে না। আমরা যদি একই ধরনের আচরণ করি, তাহলে তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো পার্থক্য থাকবে না। তাই প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে এগিয়ে নিতে হবে। হিংসা ও সংঘাতের রাজনীতি পরিহার করে জনগণের সেবা করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি শনিবার (৩০ মে) বাদ আসর রূপসা উপজেলা বিএনপি ও নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও তাবারক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির সভাপতি মোল্যা সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, যুগ্ম আহবায়ক মোল্যা খায়রুল ইসলাম, জি এম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, খুলনা জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক আবু সাঈদ শেখ, আছাফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক বিকাশ মিত্র, নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক মহিউদ্দিন মিন্টু। নৈহাটী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব দিদারুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কালাম গোলদার, রবিউল ইসলাম রবি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহবায়ক খান আনোয়ার হোসেন, সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান, বিএনপি নেতা আঃ হাকিম কাজী, রূপসা উপজেলা শ্রমিক দল নেতা মো. ইউনুস গাজী, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মমিনুর রহমান সাগর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, রূপসা মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মো. মিঠু মোল্লা, শ্রমিক দল নেতা লাবলু শেখ, হান্নান মীর, মহিলাদল নেত্রী মনিরা বেগম, রেহেনা ইসলাম, খালেদা পারভিন সিনতিহা, বাদশা মিয়া, শামীম হাসান, কবীর শেখ, মুন্না সরদার, নয়ন মোড়ল, তরিকুল ইসলাম রিপন, হালিম মোড়ল, বাবু মোল্যা, রাজু দাস, টিএসবি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নাঈম আহম্মেদ, জাহিদুর রহমান প্রমূখ।