বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ এক গভীর সংকটে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘদিনের নিয়োগে ধীরগতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং পরিকল্পনার অভাবের কারণে শিক্ষক সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতটাই যে সরকারকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হয়েছে। এই পদক্ষেপ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজার হাজার পদ শূন্য পড়ে আছে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানেও একই চিত্র। এ অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অভিজ্ঞতা দিয়ে কিছুটা ঘাটতি পূরণ করতে পারবেন বটে, কিন্তু বয়সজনিত সীমাবদ্ধতা এবং আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে তাল মেলানো তাদের জন্য কঠিন। নতুন কারিকুলাম, প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য-এসব ক্ষেত্রে তরুণ, প্রশিক্ষিত ও প্রযুক্তি-সচেতন শিক্ষকই বেশি কার্যকর। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, অবসরপ্রাপ্তদের ফিরিয়ে আনার ফলে স্থায়ী নিয়োগ আরও বিলম্বিত হতে পারে। অথচ দেশে লাখো তরুণ শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের সুযোগ না দিয়ে সাময়িক সমাধান খোঁজা তরুণদের প্রতি অবিচার এবং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা পেশায় মেধাবীদের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা আস্থার সংকট আরও বাড়াচ্ছে। শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় শুধু সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়। শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা, বেতন কাঠামো ও কর্মপরিবেশ উন্নত করতে হবে। অনেক মেধাবী তরুণ কম বেতন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ বাস্তবতা বদলানো জরুরি। আমরা মনে করি, শিক্ষা খাতকে টেকসই করতে হলে দ্রুত দক্ষ ও মেধাবী নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সাময়িক জোড়াতালি নয়, বরং স্থায়ী সংস্কারই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শক্ত ভিত্তি দিতে।