সিজেপি আন্দোলন: সোনম ওয়াংচুককে দেখতে যাওয়া বিরোধী সাংসদদের আটকাল পুলিশ

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ২২ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
সিজেপি আন্দোলন: সোনম ওয়াংচুককে দেখতে যাওয়া বিরোধী সাংসদদের আটকাল পুলিশ
ছবি, সংগৃহীত

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (এনইইটি) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে চলমান ককরোচ জনতা পার্টি-এর আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানী দিল্লিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের সহিংসতার পর বুধবারও রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে সংঘর্ষ, ভাঙচুর, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ভিডিও, মোবাইল ফোনের রেকর্ডিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন কনটেন্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইন্টারনেট বন্ধ থাকা অবস্থায় ব্লুটুথভিত্তিক মেশ নেটওয়ার্ক অ্যাপ ব্যবহারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতারা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পরে পুলিশ তাদের আটক করে এবং পরে মুক্তি দেয়। বিজেপি অভিযোগ করেছে, উচ্চ নিরাপত্তা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন রাহুল গান্ধী।

অন্যদিকে, সিজেপি জন্তর-মন্তরে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে অভিযোগ করেন, একদিকে সরকার আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।

অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দিল্লি হাইকোর্ট তাকে দ্রুত গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়।

বিরোধী সাংসদদের হাসপাতালে প্রবেশে বাধা

বুধবার সন্ধ্যায় আম আদমি পার্টির সাংসদ সঞ্জয় সিংসহ বিরোধী দলের একটি প্রতিনিধি দল মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

ওয়াংচুকের স্ত্রী ডা. গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বাইরে বিপুল পুলিশ মোতায়েনের কারণে অযথা চাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, বিরোধী সাংসদরা ওয়াংচুকের অনশন ভাঙার অনুরোধ জানিয়ে একটি স্বাক্ষরিত চিঠি নিয়ে এসেছিলেন, কিন্তু তাদের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি।

তার দাবি, সরকার যদি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি বা শারীরিক ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দেয়, তাহলে ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন।

আন্না হাজারের চিঠি

এদিকে সমাজকর্মী আন্না হাজারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়ে দিল্লিতে আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি পরিস্থিতি শান্ত করতে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকের অভিযোগ

ইউটিউব সাংবাদিক আশা শর্মা অভিযোগ করেছেন, সিজেপির সংসদমুখী মিছিলের সময় তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে এবং তার গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, আন্দোলনে প্রকৃত শিক্ষার্থীর তুলনায় বহিরাগতদের উপস্থিতি বেশি ছিল এবং আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদল বিক্ষোভকারী তার গাড়ি ঘিরে ভাঙচুর চালায় এবং অশালীন আচরণ করে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রমাণ সংগ্রহের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া