আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে খামারি ও ব্যাপারীরা গরু-মহিষ নিয়ে ঢাকামুখী হলেও এবারের বাজারে উৎসবের আমেজের চেয়ে দুশ্চিন্তার ছাপই বেশি। পশুখাদ্য, পরিবহন ও হাট ব্যবস্থাপনার অতিরিক্ত ব্যয় কোরবানির পশুর বাজারকে ক্রমেই চাপের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়বে সাধারণ ক্রেতার ওপর। রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ী ও গাবতলী পশুর হাটের চিত্র বলছে, বাজার এখনো পুরোপুরি জমে না উঠলেও অব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পানি সংকট, শেডের অভাব, কাদা-পানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ খামারিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। হাটে পশু রাখার জন্য আলাদা টাকা, শেড ব্যবহারে অতিরিক্ত খরচ কিংবা গাড়ি প্রবেশে স্টিকার বাণিজ্যের অভিযোগ কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়। এসব অনিয়ম শুধু খামারিদের আর্থিক ক্ষতিই বাড়াচ্ছে না, বরং পশুর দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, খামারিদের নিজেদের খরচে বালু কিনে কাদা সামাল দিতে হচ্ছে এবং বৃষ্টিতে গরু ভিজে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। অথচ হাট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব ছিল ন্যূনতম অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। ঈদের মতো বড় ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে রাজধানীর প্রধান পশুর হাটে এমন অব্যবস্থাপনা কাম্য হতে পারে না। অন্যদিকে পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি খামারিদের বড় সংকটে ফেলেছে। ভুসি, ছোলা, গম ও খড়ের দাম গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন ব্যয়ও। ফলে বিক্রেতারা বলছেন, গরুর দাম অন্তত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ না বাড়ালে তাদের লোকসান গুনতে হবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই মধ্যবিত্ত ক্রেতারা চাপে পড়বেন। যদিও বাজারে মাঝারি বাজেটের গরুর প্রতি আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে, তবুও অতিরিক্ত মূল্য সাধারণ মানুষের কোরবানির সামর্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায়। শুধু চাঁদাবাজি বন্ধের ঘোষণা দিলেই হবে না; হাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, পর্যাপ্ত পানি, নিরাপদ শেড, স্যানিটেশন ও ন্যায্য খরচ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় থেকে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কোরবানির পশুর হাট কেবল বেচাকেনার জায়গা নয়; এটি দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে জড়িত লাখো মানুষের জীবিকার অংশ। তাই এই বাজারকে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের হাতে ছেড়ে না দিয়ে পরিকল্পিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।