দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, বেশ কিছু অপরাধ ও সহিংস ঘটনার সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কঠোর অবস্থান নিতে পারছে না।
রোববার (৩১ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী ও গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংসদীয় ভূমিকা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি খোলামেলা বক্তব্য দেন।
ডা. তাহের বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছে এবং প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ার কারণে রাজনৈতিক আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। তাঁর দাবি, জনগণ যে আশা নিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছিল, সেখানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, “অপরাধের সঙ্গে সরকারি দলের লোকজন জড়িত থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, তা অনেক সময় নিতে পারছে না।”
চৌদ্দগ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জামায়াত নেতারা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আমির মুহাম্মদ শাহজাহানসহ স্থানীয় নেতারা।
আগামী ৭ জুন শুরু হতে যাওয়া বাজেট অধিবেশন নিয়েও মন্তব্য করেন ডা. তাহের। তিনি বলেন, সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তারা আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন এবং জনগণের সমস্যাগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরবেন।
সরকারের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা বিএনপিকে এত তাড়াতাড়ি ব্যর্থ সরকার বলতে চাই না। তবে পরিস্থিতি যদি এমনই থাকে, তাহলে জনগণের কাছেই তাদের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠবে।”
অনুষ্ঠানে তিনি আরও দাবি করেন, সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে তার ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কিশোর গ্যাং ও মাদক সমস্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঈদের পর এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে সংসদীয় রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী পক্ষের এই ধরনের মন্তব্য সামনে আরও বিতর্ক তৈরি করবে।