লক্ষ্ণীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার মেঘনা বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও ট্রলারে চড়ে উত্তাল মেঘনা নদীতে ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমন করছেন। আবার অনেকেই ট্রলার কিংবা নৌকায় করে মেঘনা পাড়ি দিয়ে নদীবেষ্টিত দুর্গম চরগুলোতে ঘুরতে যান। এখন কালবৈশাখীর মৌসুম হওয়ায় মেঘনা নদী প্রায়ই উত্তাল হয়ে ওঠে। বৈরী আবহাওয়া হওয়া সত্ত্বেও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নৌকা ভ্রমণ অব্যাহত থাকায় প্রতিনিয়ত নৌকাডুবির ঝুঁকি বাড়ছে। কালবৈশাখী ঝড় ও ভাটার কারণে নৌকাগুলো চরে ভিড়তে না পারায় শত শত দর্শনার্থী মাঝনদীতে বা চরে আটকা পড়ার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেছে। প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণির প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অনুমোদন বিহীন এসব নৌযানগুলো পরিচালিত হচ্ছে।
শুক্রবার কয়েকটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা-ট্রলার নিয়ে দর্শনার্থীরা ঘুরতে যান নদীবেষ্টিত চরগুলোতে। এর মধ্যে নারী-পুরুষ ও শিশুও ছিল। দিন শেষে সদ্ধ্যার দিকে প্রচ- ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে নদীও উত্তাল হয়ে উঠে। এতে ঘুরতে যাওয়া নারী ও শিশুসহ ৩ শতাধিক দর্শনার্থী কিল্লার চরে (ময়নার চর) আটকা পড়ে। পরবর্তীতে থানা ও নৌ-পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন শৃক্রবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে তাদের উদ্ধার করতে হয়।
জানা যায়, ঈদের ছুটিতে আনন্দ উপভোগ করতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মূখরিত হয় ওঠে উপজেলা সদর আলেকজান্ডার এই বেড়িবাঁধ এলাকা। নোয়াখালী, লক্ষ্ণীপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ সপরিবারে এখানে ঘুরতে এসে আনন্দ উল্লাস করে সময় কাটাচ্ছেন। অনেকে নদীতে নৌযান ভাড়া করে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেঘনা নদীবেষ্টিত চরগুলোতে ঘুরতে যান। এতে করে বৈরী আবহাওয়ায় ঝুঁকিকে থাকতে হয়। রবিবার সকালে সরেজমিনে বেড়িবাঁধ এলাকায় গেলে দেখা যায়, ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত স্পিড বোট, ফাইভার বোট, নৌকা-ট্রলারের ছাদে চড়ে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য করছে। কেউ মাইক-সাউন্ডবক্স ব্যবহার করে মিউজিক পরিবেশন করছে। এতে করে মেঘনার উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে নৌযানটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এর ফলে ট্রলারের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেকোনো মুহূর্তে মাঝ নদীতে নৌকা উল্টে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, প্রাণহানি এবং নিখোঁজ হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ছোট-বড় ১৫-২০টি ইঞ্জিনচালিত নৌযান পরিচালিত হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, রামগতির এই জনপদটি এখন বিনোদন স্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই এখানে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা। দর্শনার্থীরা নদী বেষ্টিত চর গুলোতে বেড়াতে যায়। এখন বৈরী আবহাওয়া হওয়াতে অনেক নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর পরও যদি কিছু থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।