খুলনার রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন ও বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঘাটভোগ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজী আব্দুল কুদ্দুস মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে রূপসা ও ফকিরহাট থানা পুলিশ ৪-৫ ঘন্টা অবস্থান করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া গ্রামের সাকিব (২৪) ঘাটভোগ এলাকার লালন সরদারের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। পরে তাকে মারধরের পর অভিভাবকদের ডেকে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনার জের ধরে ২৮ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঘাটভোগ গ্রামের মুন্না (ইলেকট্রনিক মেকার), তার সহযোগী রাকিব ও সোহাগ মানসা বাজার এলাকায় অবস্থানকালে বাহিরদিয়া গ্রামের সাকিব, হোসেন ও হাসানসহ ১০-১২ জন তাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে। পরবর্তীতে ২৯ মে ঘাটভোগ ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কাজী আব্দুল কুদ্দুস মানসা বাজার এলাকায় গেলে বাহিরদিয়া গ্রামের পক্ষের সাকিব, হোসেন, হাসানসহ কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ফকিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। এই ঘটনায় একটি দোকান ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে লালন সরদারের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগে স্থানীয় জনতা তার বাড়ি হামলা চালায় এবং ভাঙচুর করে। এ সুযোগে কতিপয় দুষ্কৃতকারীরা আবুল কালাম সরদার এবং আশরাফ আলী সরদারের বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাট করে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী আবুল কালাম সরদার জানান, দুষ্কৃতকারীরা তার বাড়ি ভাঙচুর এবং লুটপাট করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার এবং দামী আসবাবপত্র নিয়ে যায় । অপরদিকে আশরাফ আলী সরদার জানান, তার বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালংকার এবং দামি আসবাবপত্র ভাঙচুর ও লুটপাট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মাদক ব্যবসা এলাকা থেকে বন্ধ হোক এটা ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
তবে তার বাড়ি হামলা এবং ভাঙচুর করে যে মালামাল লুটপাট করা হয়েছে তা খুবই দুঃখজনক বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) খান আব্দুস সবুর জানান, ঘটনাস্থলটি দুই থানার সীমান্তবর্তী হওয়ায় দু'পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং আশপাশ এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ তৈরী হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রূপসা ও ফকিরহাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।