কালীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আফেলার মানবেতর জীবনযাপন

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) : | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
কালীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী আফেলার মানবেতর জীবনযাপন

মানসিক প্রতিবন্ধী বেকার  ছেলেটা নিয়ে খেয়ে না খেয়ে কোনো রকম বেচে আছি। কিসের মুক্তিযোদ্ধা কোঠা,তদবির আর টাকা ছাড়া ছেলে মেয়েদের চাকরি দেবে কিডা? অনেক মুক্তিযোদ্ধারা বসবাসের জন্য  ঘর েেপয়েছেন, আমার কপালে মাথা গোজার একটি ঠায় হলো না।এ ভাবে চরম ক্ষোভ আর দুঃখ ভারাক্রান্ত মনের কথাগুলো বলছিলেন একজন প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বিধবা স্ত্রী আফেলা বেগম ।

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ  উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলী। ২০০২ সালে তার মৃত্যুর ২ যুগ অতিবাহিত হলে ও অসহায় বিধবা স্ত্রী আফেলা বেগম  বেকার ও মানসিক প্রতিবন্ধী ছোট ছেলে ও কৃষি দিনমজুর ছেলের সংসারের  ঘানি টানছেন। কখনো খেয়ে কখনো না খেয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে পরিবারটির। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সরকারের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে বসবাসের জন্য ঘর নির্মান করে দেওয়া হলে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর পরিবার এধরনের কোন সুবিধা পাননি।বর্তমানে তার স্ত্রী ঘরের অভাবে দুর্বিসহ জীবন যাপন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।আলেফা বেগম জানান, আমার স্বামী জীবিত থাকতে গাড়ি চালক হিসাবে কর্মরত থেকে কোনোরকম সংসার চলতো। উপার্জনের একমাত্র এই ব্যক্তির ২০০২ সালে মৃত্যু হলে দু’চোখে অন্ধকার নেমে আসে আমার। ধীরে ধীরে ছেলে-মেয়েরা বড় হতে থাকলে বেড়ে যায় সংসারের খরচ। নামে মাত্র মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেলেও বড় সংসারের ভার বইতে কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তিন ছেলের একজন অসুস্থ, একজন মানসিক প্রতিবন্ধী এবং আরেকজন কৃষি দিনমজুর। মেয়েরা বিয়ে হয়ে গেছে আছে যার যার সংসারে। ছেলে মেয়েদের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অভাব অনটনে দিন কাটছে আমার। এ বিষয়ে সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার পরিবারের জন্য যদি একটি সরকারি ঘর করে দেওয়া হত তাহলে আমার বসবাসের কষ্টটা অনেকাংশে দূর হত। 

পারিবারিক ও মুক্তিযোদ্ধা সনদে উল্লেখ রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে আনসার আলী ১৯৭১ সালে ভারত থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট তালিকায় তার নামটি রয়েছে ৭৭৭ নম্বরে। ৮ নম্বর সেক্টরের বিভিন্ন স্থানে তিনি একাধিক সম্মূখযুদ্ধসহ বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। ২০০২ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রীসহ চার মেয়ে ও তিন ছেলে রেখে যান।মুক্তিযোদ্ধা আনসার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্ত্রী টিনের বেড়া দিয়ে বানানো ভাঙাচোরা ছোটো একটি কুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন। সামান্য বৃষ্টি হলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে,ঘরের মালামাল নিয়ে অন্যা কোথা ও যেতে হয়। ফলে অর্থের অভাবে সব ছেলে-মেয়েকে শিক্ষিত করতে পারেননি তিনি।যে কারণে সংসারে ফেরেনি সচ্ছলতা। আবার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা হলেও সরকারি অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত তার পরিবার। 

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সেকেন্দার আলী বলেন, পরিবারটি খুব অসহায় অবস্থায় রয়েছে বিষয়টি আমি জানি।বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া ঘরের জন্য একটি  লিখিত আবেদন লাগবে। আফেলা বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করবো। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও)রেজওয়ানা নাহিদ বলেন,অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের সরকারি ঘরের জন্য আবেদন জমা নেওয়া হচ্ছে। ওই পরিবারটি দ্রুত একটি লিখিত  আবেদন করুক। আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখে তার কষ্ট লাঘবের জন্য চেষ্টা করব।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে