ঝিনাইদহে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে নির্মিত ও উদ্বোধনকৃত শত কোটি টাকার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অবহেলার কারনে গত ২০ বছর ধরে অবস্থায় পড়ে আছে।শত শত কোটি টাকার সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।বিএনপির অবদান ও ফলকে খালেদা জিয়ার নাম থাকার কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এই আধুনিক ভবন গুলোতে পূর্ণাঙ্গ জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়নি, যার ফলে কোটি কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং জনকল্যাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।দীর্ঘ ২০ বছর পার হলেও এসব প্রতিষ্ঠান বিগত আওয়ামীলীগ সরকার প্রতিহিংসার কারনে চালু করেনি।
বিগত ১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের বিভিন্ন সময়ে এই মেগা প্রকল্প গুলো হাতে নেওয়া হলেও বিগত সরকারের অদৃশ্য ‘রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা’র কারণে এগুলো অচল হয়ে পড়ে। যে সব প্রতিষ্ঠান পড়ে রয়েছে তন্মধ্যে ঝিনাইদহের মদনমোহন পাড়ায় অবস্থিত খাবার স্যালাইন তৈরির কারখানাটির ভবন নির্মাণে ব্যায় হয়েছিল ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৮৯ টাকা।নির্মাণকাল ২০০৫ সালের ২২ অক্টোবর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে, যা ২০০৮ সালের ২১ আগস্ট শেষ হয়।ঝিনাইদহ সরকারি খাবার স্যালাইন ফ্যাক্টরি’ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ফেলে রেখে শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে এবং ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কোটি কোটি টাকার ‘করোনারি কেয়ার ইউনিট’(সিসিইউ) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে এখনও আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৫ সালে উদ্বোধিত দেশের একমাত্র ২৫ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি শিশু হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় এটি শিশুদের কাক্ষিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল শহরে অবস্থিত একটি সরকারি শিশু হাসপাতালটি ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয়।২০০৫ সালের ৭ মে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। সে সময়ে ৮৮ লক্ষ ১ হাজার ৯০৬ টাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় ৩ একর জমি ক্রয় করে হাসপাতালটি নির্মাণ করে। নির্মাণ কাজে মোট ৫ কোটি ৬৪ লক্ষ দুই হাজার ৮৭ টাকা খরচ ব্যায় হয়। ২০০৬ সালের ৩০ এপ্রিল হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়।২০০৬ সালের ১০ নভেম্বর প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার পর হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়। ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় ৭ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেন কিন্তু তারা কখনোই হাসপাতালে যোগদান করেনি। ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর ১১ জন স্টাফ নার্স নিয়োগ দেওয়া হলে তারা ঝিনাইদহ সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে যোগদান করে অন্য স্থানে বদলি হয়ে চোলে যান।পুনরায় ২০১৯ সালে সংস্কার ও মেরামতে ২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়।
ঝিনাইদহ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল(ম্যাটস)-এর চিত্র আরও ভয়াবহ,যেখানে অনুমোদিত ১০৪টি পদের সবকটিই খালি এবং কোনো সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়াই মাত্র দুইজন অতিথি শিক্ষক দিয়ে ১৫৬ জন শিক্ষার্থীর শিক্ষাকার্যক্রম চালানো হচ্ছে, এমনকি তীব্র সংকটের কারণে গত ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এখানে নতুন কোনো ছাত্র ভর্তি করা সম্ভব হয়নি। একই ভাবে ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি)গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পদ খালি এবং রেডিওলজি ও ‘রেডিও থেরাপি’ ল্যাবের কোনো যন্ত্রপাতি না থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে, যার রূপান্তর দেখা গেছে হরিণাকুন্ডু ও আঞ্চলিক নার্সিং ইনস্টিটিউটেও।
এছাড়া ৯ বিঘা জমির ওপর নির্মিত খুলনা বিভাগের একমাত্র ‘মুক ও বধির আবাসিক স্কুলটিতে ৯টি স্থায়ী পদের মধ্যে ৬টি শূন্য থাকায় ধারের ৩ জন শিক্ষক এবং নিয়মিত বেতন না পাওয়া আউটসোর্সিং কর্মচারীদের দিয়ে এটি কোনোমতে খুঁড়িয়ে চলছে। সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মূক-বধির আবাসিক স্কুল স্থাপন প্রকল্পের অধীন এ স্কুলটি নির্মাণ করা হয়। ঝিনাইদহ শহরের সার্কিট হাউজ সড়কে ৯ বিঘা জমির ওপর স্কুলটি নির্মিত হয়।২০০২ সাল থেকে শুরু করে ২০০৬ সালের মধ্যে স্কুলটি নির্মাণের কথা ছিল। পরে সময় বাড়িয়ে ২০০৯ সাল করা হয়। মোট ব্যয় হয়েছে ৪ কোটি ১৭ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। নির্মাণ করা হয় একাডেমিক ভবন, দুইটি আবাসিক হলসহ অন্যান্য অবকাঠামো। এখানে প্রতি বছর যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার ৫০ জন ছেলে ও ৫০ জন মেয়ে বাক-শ্রবন প্রতিবন্ধীকে ভর্তির কথা ও পুরাপুরি আবাসিক এ স্কুল। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ রাজনৈতিক সংকীর্ণতার কারণে এই রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত এগুলো চালুর দাবি জানান।
ঝিনাইদহের সিভিল সার্জন ডাঃ কামরুজ্জামান সোহেল বলেন,বিগত সরকারের আমলে স্বাস্ব্য শিক্ষা অধিদপ্তর চালুর পর প্রশাসনিক জটিলতায় ম্যাটস ও আইএইচটি-সহ বিভিন্ন দপ্তর মুখ থুবড়ে পড়েছে, তবে শিশু হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলো সিমিত জনবল নিয়ে চলছে এবং স্যালাইন ফ্যাক্টরি ও সিসিইউ দ্রুত সফলতার মুখ দেখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।