জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত, এক শিশুকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা এবং দুই নারীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১ জুন) উপজেলার পৃথক স্থানে এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলার সড়াইল গ্রামের ইমন হোসেন (২৯), তার শ্যালক ফেরদৌস হোসেন (১৩) ও স্ত্রী রাজিয়াকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে পাঁচবিবি উপজেলায় আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার খারিতা এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর পড়ে থাকা খড়ের গাদায় মোটরসাইকেলটি পিছলে যায়। এ সময় তারা সড়কে ছিটকে পড়লে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির পিকআপ তাদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমন হোসেন ও শ্যলক ফেরদৌস হোসেন নিহত হন। খবর পেয়ে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। একই দিন উপজেলার তোটতারা গ্রামের রমজান আলীর স্ত্রী আফিয়া খাতুন (২৩) পারিবারিক কলহ ও পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে অভিমান করে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
অপরদিকে দুপুরে ক্ষেতলাল পৌর এলাকার ইটাখোলা মহল্লার রব্বানী ইসলাম বিদ্যুতের চার বছর বয়সী মেয়ে রিতি মণ্ডলকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নেয় পৌরসভার জালিয়াপাড়া মহল্লার আমিনুল ইসলামের ছেলে রাব্বি হোসেন (২৩)। অভিযোগ রয়েছে, পরে শিশুটির মুখে টেপ বেঁধে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসক তার মাথায় সাতটি সেলাই দেন। বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা রব্বানী ইসলাম বিদ্যুৎ চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুইজনকে আসামি করে ক্ষেতলাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ এজাহারভুক্ত আমিনুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে।
এদিকে বিকেল ৫টার দিকে ক্ষেতলাল উপজেলার বেলগাড়ী গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের মেয়ে নিপা (২০)-এর বিয়ে হয় কালাই উপজেলার মুড়াইল গ্রামের শিপনের সঙ্গে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের জেরে অভিমান করে নিপা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে বগুড়া সজিমেকে রেফাট করা হয়। ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুল হোসেন বলেন, একই দিনে সড়ক দুর্ঘটনা, শিশুকে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টা এবং একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।