উত্তর চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএকে ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ আস্থার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবাস, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের কারণে তিনি উত্তর চট্টগ্রামের বিএনপির রাজনীতির অন্যতম আলোচিত নেতৃত্বে পরিণত হয়েছেন।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মামলা, গ্রেপ্তার, দীর্ঘ কারাবাস এবং নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও আসলাম চৌধুরী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন। বিএনপির কঠিন সময়গুলোতে তিনি কর্মীদের সাহস জুগিয়েছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণে অনেক কর্মীর কাছে তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা নন, বরং সংকটকালের একজন অভিভাবক হিসেবেও বিবেচিত।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনকালে তার সাংগঠনিক তৎপরতা বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, সন্দ্বীপ, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক সফর, কর্মীসভা, মতবিনিময় সভা এবং সাংগঠনিক বৈঠকের মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করেন। তার এসব উদ্যোগ সংগঠনকে আরও সক্রিয় ও সুসংগঠিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।
রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকটে তিনি কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাজনৈতিক সহিংসতায় আহত কর্মী, মামলা-হামলার শিকার নেতাকর্মী কিংবা আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়া এবং সহযোগিতার চেষ্টা করার কারণে কর্মীদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক নয়, মানবিক বলেও মন্তব্য করেন অনেকে।
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাদ্রাসা, মসজিদ এবং সামাজিক সংগঠনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাও তার সমর্থকরা তুলে ধরেন। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড তাকে সাধারণ মানুষের কাছেও পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
সমর্থকদের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে তাকে বিতর্কিত করতে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে তাদের দাবি, তিনি আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগাযোগ অটুট রয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন রাজনৈতিক নেতার মূল্যায়ন হয় সংকটকালে তার ভূমিকা, সাংগঠনিক অবদান এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে আসলাম চৌধুরী উত্তর চট্টগ্রামের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবাস, সাংগঠনিক তৎপরতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগের কারণে তিনি উত্তর চট্টগ্রামের বিএনপি রাজনীতির একটি পরিচিত ও আলোচিত নাম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন।