চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষ্ণীপুর ইউনিয়ন বহরিয়া বাজার ও হাইস্কুল সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ রাস্তার দুইপাশে বড় ধরনের গর্ত ও ফাটল দেখা দেওয়ায় চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারী এবং যানবাহন। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী, পথচারী এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আতঙ্কের মধ্যে ব্রিজ পারাপার হচ্ছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বহরিয়া বাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের খালের ওপর এই ব্রিজ নির্মাণ করে। দীর্ঘ বছর ধরে ব্রিজ বহরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,শ্রীরামপুর গ্রামসহ বহরিয়া বাজার আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজের ওপর ভারী বৃষ্টিতে অতিরিক্ত পানির চাপে ব্রিজের বাজার সংলগ্ন অংশের রাস্তা ভেঙ্গে বর্তমানে সেখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ফাটল আরো বিস্তৃত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজের পাকা রাস্তার কংক্রিটের অংশ ভেঙে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দুটি অটো বাইক দূরের কথা একটি অটো বাইক বা রিক্সা রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। মোটরসাইকেল, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে চলাচল করতে হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। স্থানীয় দোকানদার বলেন, ‘ব্রিজটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। অনেকদিন ধরেই এখানে রাস্তা ধসে পড়ে বড় বড় গর্তও হয়েছে। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। দ্রুত মেরামত না করলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ বহরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মো. আজাহার উদ্দিন মিয়া বলেন, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র,‘স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ নারী-পুরুষ সবাই এই সেতু ব্যবহার করে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে অভিভাবকরা সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’ খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ রাস্তার দু'পাশে বড় গর্তের কারণে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, যানজট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সেতুর সংযোগ সড়কে এভাবে বড় গর্ত ও ভাঙন সৃষ্টির পেছনে সাধারণত কয়েকটি কারণ দায়ী থাকে। খালের পানি উপচে বা নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় পানি জমে মাটির নিচ থেকে মাটি সরে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।