সৈয়দপুরে কেমিক্যালে পাকানো ফলের ছড়াছড়ি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
সৈয়দপুরে কেমিক্যালে পাকানো ফলের ছড়াছড়ি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাজারজুড়ে বিক্রি হচ্ছে আম, লিচু ও কলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল। তবে এসব ফলের একটি বড় অংশ কেমিক্যাল বা রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত পাকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন ক্রেতা ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শহরের বিভিন্ন ফলের আড়ত ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাহ্যিকভাবে আকর্ষণীয় ও চকচকে দেখালেও অনেক ফলের স্বাভাবিক গন্ধ ও স্বাদ নেই। ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে আসা কিছু আম, লিচু ও কলা অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত পাকছে এবং দীর্ঘ সময় সতেজ থাকছে, যা রাসায়নিক ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, ফল দ্রুত পাকানো ও সংরক্ষণের জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কার্বাইড, ইথোফেন বা অন্যান্য রাসায়নিক ব্যবহার করছেন বলে তারা সন্দেহ করছেন। ফলে শিশু, বয়স্ক ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমোদনহীন বা মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হলে তা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদে লিভার, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ফল পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান পরিচালনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া অতীতে ফল ও লিচুবাগানে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়েও গবেষণা ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

সৈয়দপুরে এর আগেও ফরমালিনযুক্ত ফল বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন ফলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।

ভোক্তাদের দাবি, বাজার তদারকি জোরদার করে ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে