কাহারোলে বোরো চাষীদের মাঠে হাসি-হাটে হতাশ

এফএনএস (মোঃ আব্দুল্লাহ; কাহারোল, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
কাহারোলে বোরো চাষীদের মাঠে হাসি-হাটে হতাশ

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় কৃষকেরা বোরো ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। সিন্ডিকেট, শ্রমিকের উচ্চ মুজুরী এবং এনজিও’র ঋণের কিস্তিতে - এই ত্রি-মুখী চাপ কৃষকদের জীবনকে দূর্বিসহ করে তুলেছে। সরজিমেনে উপজেলার হাটগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবার কাহারোল হাটে ধান বিক্রি করতে এসেছেন কৃষক। অনেক কৃষকই ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হাটে আনা ধান বিক্রি করেছেন কম দামে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যেখানে চালের বাজার আকাশ ছোঁয়া সেখানে ধানের বাজার আকষ্মিক ধস নেমেছে। বর্তমানে একজন ধান কাটা শ্রমিকের হাজিরা ৮ শত থেকে ৯ শত টাকা। কৃষকেরা প্রতি মণ ধান বিক্রি করছেন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এক মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের মুজুরী উঠছে না। উপরোন্তু আবার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ৭৫ কেজির জায়গায় সাড়ে ৭৭ কেজি ধান দাবী করছেন - যা কৃষকদের প্রতি মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

উপজেলার সরঞ্জা গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মোঃ এনামুল ক্ষোপ প্রকাশ করে জানান, তিনি বাজারে ২০ মণ ব্রি-ধান ২৯ বাজারে নিয়ে এসেছিলেন ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম কম বলছিলেন এবং ওজন আড়াই কেজি বেশী চেয়েছিলেন। একই গ্রামের হরিশ চন্দ্র রায় বলেন, তার কাঠারী ধান প্রতি মণ ১৪৫০ টাকা বিক্রি হলেও প্রতি বস্তায় ব্যবসায়ীদের আড়াই কেজি ধান বেশী দিতে হচ্ছে। রসুলপুর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের কৃষক হাফিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার শত শত কৃষকের চোখে মুখে এখন কেবলই হতাশার ছাপ। বর্তমানে বিভিন্ন কীটনাশকের দোকানে কৃষকদের বাঁকী রয়েছে অপরদিকে রয়েছে এনজিও গুলির কিস্তির চাপ। 

কাহারোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৫ হাজার ৫ শত ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত উপজেলায় ৯০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। 


এই বিষয়ে কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহিদুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তবে কৃষকেরা বাজারে কাঙ্খিত দাম পাচ্ছেন না - এটি সত্যিই উদ্বেগজনক। শ্রমিকের চড়া মুজুরির কারণে কৃষকদের উৎপাদন খরচ এমনিতেই বেশী। আমরা সরকারিভাবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ধান ক্রয়ের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করেছি। যাতে প্রান্তিক চাষীরা সরাসরি লাভবান হতে পারেন এমন এই সংকট কেটে যায়। 

কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীম বলেন, ধানের বাজারে ওজনে কারচুপি বা কৃত্রিম সংকট অথবা সিন্ডিকেট তৈরী করে কৃষকদের ঠকানোর কোন সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা দ্রুতই প্রয়োজনে হাটগুলোতে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে