৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ইয়াছিন হামিদ জিসান

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক):
| আপডেট: ২ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম | প্রকাশ: ২ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় ইয়াছিন হামিদ জিসান

লক্ষ্ণীপুর সদর উপজেলার ৫নং পার্বতীনগর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে তৃণমূল নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রনেতা ইয়াছিন হামিদ জিসান। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে সম্মুখ সারীর যোদ্ধা হিসেবে রাজপথে তার বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং দক্ষ সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণে তিনি বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল ছাত্রনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন ছাত্রদলের (২০২২ সাল থেকে) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনকে গতিশীল রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের সংগ্রামে তিনি সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার ত্যাগ, সাহস এবং আপসহীন মনোভাবের কারণে স্থানীয় ছাত্র রাজনীতির অঙ্গনে তিনি ব্যাপক পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছেন।

অর্জিত অর্জন ও দলীয় কার্যক্রম

দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত জিসান সংগঠনের প্রয়োজনে প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:

ফ্যাসিবাদ বিরোধী সংগ্রাম: বিগত দিনগুলোতে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকল কর্মসূচিতে রাজপথে সক্রিয় থেকে নেতৃত্ব প্রদান এবং সাহসিকতার সাথে রাজপথ দখল রাখা।

সাংগঠনিক দৃঢ়তা: ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি ওয়ার্ডে তৃণমূল কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা। তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেও কাজ করেছেন।

জনসংযোগ: সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের যেকোনো বিপদে নিঃস্বার্থভাবে পাশে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।

২০২৬ সালের ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্ণীপুর ২ (সদর আংশিক ও রায়পুর) ২৭৫ আসনের ধানের শীষের এমপি প্রার্থী জনাব আবুল খায়ের ভূইয়ার হয়ে দিন রাত কাজ করেছেন। 

ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি :

ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলে ইয়াছিন হামিদ জিসান তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের জন্য নিম্নোক্ত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ:

মেধাবী ছাত্রদলের বিকাশ: ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের শক্তিশালী ও গঠনমূলক ইউনিট গঠন করা, যেখানে মেধার মূল্যায়নে কোনো আপস করা হবে না।

শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ: ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ছাত্র নিপীড়নবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখা।

তৃণমূল কর্মীদের মূল্যায়ন: ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনের দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরিশ্রমী কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

সামাজিক উন্নয়ন: ছাত্র রাজনীতির পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডে ছাত্রদলের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা, যাতে সাধারণ মানুষের কাছে ছাত্রদলের গ্রহণযোগ্যতা আরও সুসংহত হয়।

ইয়াছিন হামিদ জিসান বলেন, "সংগ্রাম আমার রক্তে, আর ছাত্রদল আমার ঠিকানা। বিগত দিনগুলোতে দলের জন্য রাজপথে যে লড়াই করেছি, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হলে সেই দায়িত্ববোধ আরও বাড়বে। আমি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি আধুনিক, গতিশীল ও সংগ্রামী ছাত্রদল গড়ে তুলতে চাই।"

তিনি আরও বলেন, আমার এই রাজনীতি কোনো আকস্মিক প্রাপ্তি নয়, বরং এটি আমার দীর্ঘদিনের পারিবারিক ঐতিহ্য। আমার দাদা মরহুম আবদুল আজিজ এই ইউনিয়ন বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি পদের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না; বরং শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে জেল-জুলুম এবং অসংখ্য মামলার শিকার হয়েও অবিচল ছিলেন। এমনকি বিএনপি করার অপরাধে আমার দাদার ঘর পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয়েছে। তবুও তিনি নিজের জায়গা-জমি বিক্রি করে মামলা চালিয়েছেন ও সংগঠনকে সুসংগঠিত করেছেন এবং মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রিয় দল বিএনপিকে ভুলে যাননি। আমার বাবা জসীম উদ্দীন (বর্তমান ইউনিয়ন বিএনপির অন্যতম সদস্য) ১৯৯৬ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনিও চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। জাতীয় সংসদে আলোচিত হওয়া ঐতিহাসিক মিথ্যা মামলায় তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছিল। এত ষড়যন্ত্র আর নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও আমার পূর্বপুরুষদের জাতীয়তাবাদী আদর্শের তুখোড় রাজনীতি থেমে থাকেনি।

আমি তাদের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে সংগ্রাম করে গিয়েছি। আমি বিশ্বাস করি দল আমার ত্যাগ ও পারিবারিক ঐতিহ্যের সঠিক মূল্যায়ন করবে। আমার পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থান অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং একটি সংগঠনকে গতিশীল করার সকল যোগ্যতা আমার রয়েছে বলে আমি মনে করি।

ইউনিয়নের ছাত্র রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্ব ও পরিবর্তনের প্রত্যাশায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা জিসানের ওপর ভরসা রাখছেন। তাকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে পাওয়ার দাবি এখন ইউনিয়ন ছাত্রদলের একটি বড় অংশে জোরালো হয়ে উঠেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে