নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ভয়াবহ ধস নেমেছে। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছেন। বাজারে গরুর চামড়া যেখানে কয়েক বছর আগেও তুলনামূলক ভালো দামে বিক্রি হতো, সেখানে এবার অনেক ব্যবসায়ী খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ বাবদ প্রতি গরুর চামড়ায় উল্লেখযোগ্য খরচ হলেও পাইকারি বাজারে দাম মিলছে খুবই কম। ফলে অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া পাওনা, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় এ সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
সৈয়দপুরের এক চামড়া ব্যবসায়ী বলেন, “চামড়া সংগ্রহ করতে যে টাকা খরচ হয়েছে, বিক্রি করে তার অর্ধেকও উঠছে না। এভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক ব্যবসায়ী চামড়া বিক্রির অপেক্ষায় থাকলেও ক্রেতার সংখ্যা কম। ফলে কেউ কেউ বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া ছেড়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু ব্যবসায়ী চামড়া সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে বিক্রির চেষ্টা করছেন, তবে তাতেও বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চামড়া শিল্পকে ঘিরে দীর্ঘদিনের সংকট, ট্যানারিগুলোর অর্থনৈতিক চাপ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী মৌসুমে আরও অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এ খাত থেকে সরে যেতে পারেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বকেয়া অর্থ দ্রুত পরিশোধ এবং বাজারে স্বচ্ছতা আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৈয়দপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চামড়ার বাজারে মূল্যপতনের কারণে ব্যবসায়ীরা ধারাবাহিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সৈয়দপুরে গরু ও ছাগলের চামড়ার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সৈয়দপুর চামড়া ব্যবসায়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সারফরাজ বলেন, এ বছর প্রকার ভেদে গরুর চামড়া ক্রয় করেছি নিম্নে ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত। খাসির চামড়া ২০ টাকা থেকে ২শ টাকা। কিন্তু এ দামে ক্রয় করেও আমি চামড়া বিক্রি করতে পারিনি। বাজারে গরু ও মাংসের দাম বেশি থাকলেও চামড়ার দামে নেমেছে ধস। সৈয়দপুরে ১৫ জনের মত চামড়া ব্যবসায়ি রয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পেশা ছেড়েছেন।