কুমিল্লার হোমনা পৌরসভায় হঠাৎ করেই বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব জননিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার ৫ নং ওয়ার্ডে কুকুরের অতর্কিত আক্রমণে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি কুকুরের ভয়ে অনেকে মসজিদে গিয়ে ফজর নামাজও আদায় করতে পারেননি। হাসপাতালগুলোতে ভ্যাকসিন সংকটের কারণে আক্রান্তদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার পৌরসভা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আক্রান্তরা কেউ নিজের বাড়ির উঠানে কাজ করার সময়, আবার কেউ রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। এমনকি অন্যকে বাঁচাতে গিয়েও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে বুধবার হোমনা পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মতিউর রহমান (৫০), শাহিদা (৪২), সালেহা বেগম (৫৫), বিল্লাল (৬২), তৈয়বা আক্তার (১০), ইমরান (২৩), সর্বচন্দ্র দাস (৭০), রেখা রানী (৪৫), জীবন মিয়া (৬০) বীথি আক্তারের (৩২) এবং বৃহস্পতিবার- সুরিয়া আক্তার (৩৫), কুমুদি (৬০), শিউলী (৪৬), রেখা রানী দাস (৪০), সাবিনা ইয়াছমিন (৩৫)-এর নাম জানা গেছে। উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মতিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে বাসায় যাওয়ার পথে পেছন দিক থেকে এক পায়ে কামড় দেয়। প্রতিহত করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে অপর পায়েও কামড়ে দেয়। দুই দিনে অন্তত ২৫-৩০ জনকে কামড়ে আহত করেছে পাগলা কুকুর। এগুলোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মো. আলমগী হোসেন জানান, তার ছোট বোন বিথিকে বুধবার সন্ধ্যায় বাড়ির উঠানে পাগলা কুকুর কামড়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। বুধবার বৃহস্পতিবার দুই দিনে অন্তত ২৯-৩০ জনকে কামড়েছে। হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে বুধবার ১০ জন ও বৃহস্পতিবার ৫ জন এবং বহির্বিভাগে বুধবার ৩ জন বৃহস্পতিবার ২ জনসহ মোট ২০ জন এবং বাকীরা অন্যত্র প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. শহিদুল্লাহ জানান, হাসপাতালে যাওয়া পাগলা কুকুরের আক্রমণে আহত রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে জলাতঙ্কের (র্যাবিস) ভ্যাকসিনের সংকট থাকায় রোগীদের স্থানীয়ভাবে তা সংগ্রহ করে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। হোমনা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাম্মেদ মোফাচ্ছের জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে জনস্বার্থে অভিযান চালাচ্ছি।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, দিনের বেলা বিষয়টি তাদের কেউ জানায়নি। আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে পৌরসভা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর যৌথভাবে এসব বেওয়ারিশ ও পাগলা কুকুরের উপদ্রব রোধে অভিযান চলছে।