চাঁদপুর শহরের ওয়্যারলেস বাজার-এ সহিংসতার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, জামিয়া ইসলামিয়া ফজলুল উলুম মাদ্রাসা এবং মসজিদ পরিদর্শন করেছেন চাঁদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক। বৃহস্পতিবার (৪ জুন ২০২৬) বিকেলে চাঁদপুরে এসেই তিনি ক্ষতিগ্রস্তস্থান পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন। এ সময় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ক্ষতিগ্রস্ত ও এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় পাবেন না। স্থানীয় ভূমিদস্যু ও ফ্যাসিবাদের লোকেরা এখানে ছিল, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই কাজের সাথে যারা জড়িত তারা কেউ আমাদের আপন নয়, আমাদের আপন লোক হলো জনগণ।এ ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্স। মিডিয়া, প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে আমি ঘটনার সম্পর্কে যা জেনেছি,হলফ করে বলতে পারি কাউকে ছাড় দেয়া হবে না এবং যারা এই ঘটনাকে বিভিন্নভাবে, নেগেটিভ ভাবে প্রচার করেছে তাদেরকেও ছাড় দেওয়া হবে না। যাদের দোষ নেই, তাকে যদি দোষারোপের চেষ্টা করা হয় প্রশাসন দেখবে। কিছু লোক এই ঘটনা নিয়ে বাতাস দেয়। আমি চাই যারা ভিকটিম তারা যেন ন্যায্য বিচার পায়। ক্ষতিগ্রস্তরা যেন ক্ষতিপূরণ পায়। আমি সরোজমিন দেখে গেলাম। প্রশাসনের সাথে কথা বলবো। দলীয়ভাবে এই ঘটনায় কেউ জড়িতে থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ইতিমধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরো কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও নেওয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। সবচেয়ে বড় কথা হলো প্রশাসন কিন্তু জিরো টলারেন্সে রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, কেউ যদি মনে করেন এ ঘটনা করে আধিপত্য বিস্তার করবেন তার জন্য স্বপ্নেই থেকে যাবে। আধিপত্য বিস্তারের কোন সুযোগ নেই। যে অপরাধ করবে প্রশাসন তাকে ধরবেই। আমি জেনেছি, এই ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারাও চাইলে মামলা করতে পারবে। মসজিদ-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও যদি মনে করেন আপনাদের বড় ক্ষতি হয়েছে আপনারা আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।
এ সময় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌর বিএনপি'র সভাপতি আকতার হোসেন মাঝি,সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হারুনুর রশিদ, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক শরিফ উদ্দিন আহমেদ পলাশসহ আরো অনেকে। এছাড়া ওয়ারলেস বাজার ব্যবসায়ী ও অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় দু'পক্ষের বিরোধ ও সংঘর্ষের জেরে ঘটা সহিংসতার এ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এর আগে, রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা নাগাদ স্থানীয় দুপক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা, জখমের ঘটনা ঘটে এবং একটি মার্কেটে আগুন দেওয়া হয়। মার্কেটে থাকা দোকানে মালামালসহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের ভবনে। ফলে পাশে থাকা জামিয়া ইসলামিয়া ফজলুল মাদ্রাসা ও মসজিদে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভয়াবহ এই আগুনে মসজিদের এসিসহ অনেক কিছুই পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের দাবি, এতে প্রায় কয়েক কোটি টাকার মালামাল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। সংঘটিত এ ঘটনার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য চাঁদপুর ছিলেন না। তিনি রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাহিরে ছিলেন বলে জানা যায়।