চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প" এর জেলা পর্যায়ে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৪ জুন ২০২৬ইং) দুপুরে চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ জিয়াউর রহমান। সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. এরশাদ উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সদর সার্কেল খায়রুল কবীর, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ সকল উপজেলা ও চাঁদপুর জেলার ৮৮ টি ইউনিয়নের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
প্রকল্প বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন উক্ত প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মমতাজ বেগম।
জেলা প্রশাসক বলেন, গ্রাম আদালত বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এটি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত সাধারণ মানুষের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার জন্য গ্রাম আদলতের ভূমিকা অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ব্যাপারে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বিশেষ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারীদের কে জনসচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নিতে হবে এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং যথাযথ ভাবে নথি তৈরী ও সংরক্ষণের জন্য পরামর্শ প্রদান করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক এরশাদ উদ্দিন বলেন, গ্রাম আদালতের এখতিয়ার ভূক্ত মামলা যেন দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে সাধারণ জনগণের বিচারিক সেবা নিশ্চিত করা হয়, সপ্তাহে একদিন গ্রাম আদালত পরিচালনা করা বাধ্যতামূলক। গ্রামে কিংবা ওয়ার্ডে নয় যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এজলাস ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের মামলা গ্রাম আদালতেই নিষ্পত্তি করতে হবে এবং নথি যথযথ ফরমে পূরণ করে সংরক্ষণ করতে হবে। একটা এক নজরে কম্পিউটারে ডাটাবেজ তৈরির জন্য তিনি হিসাব সহকারীদের পরামর্শ দেন এবং নথি সংরক্ষণের জন্য একটি করে স্টীলের আলমিরা সকল ইউনিয়নে দেওয়ার জন্য সকল নির্বাহী অফিসারগণ কে নির্দেশ প্রদান করেন।
সহকারী পুলিশ সুপার সদর সার্কেল খায়রুল কবীর বলেন কোন থানায় এখন থেকে গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা গ্রহণ করবে না। তিনি অফিস ইনচার্জ সকল চাঁদপুর ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে ইতোমধ্যে আলোচনা করেছেন। উপপরিচালক সমাজসেবা নজরুল ইসলাম খান বলেন, সমাজসেবার পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে সকল ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে। উন্মুক্ত আলোচনায় হিসাব সহকারীগণ তাদের নিজ নিজ সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ গুলো তুলে ধরেন। সবশেষে সভার সভাপতি সকলকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করেন।