ন্যায্য দাম না পাওয়ায়

সৈয়দপুরে প্রতিবছর কমছে পাটের আবাদ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ৬ জুন, ২০২৬, ০৩:৪০ পিএম
সৈয়দপুরে প্রতিবছর কমছে পাটের আবাদ

একসময় ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পরিচিত পাট ছিল নীলফামারীর সৈয়দপুরে কৃষকদের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় প্রতিবছরই এ জেলায় কমছে পাটের আবাদ। ফলে অনেক কৃষক পাট চাষ ছেড়ে ভুট্টা, ধান, মরিচসহ অন্যান্য লাভজনক ফসলের দিকে ঝুঁকছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে পাট বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বীজ, সার,ও শ্রমিকের খরচ বাড়লেও সে অনুযায়ী বাজারমূল্য বাড়েনি। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে পাটের জমি কমিয়ে দিয়েছেন।

 সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক ফজলুল হক জানান,আগে কয়েক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতাম। এখন দাম কমে যাওয়ায় অর্ধেক জমিতে চাষ করছি। পাট বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা,অনেক সময় খরচই ওঠে না। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে,গত এক দশকে উপজেলায় পাটের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আবহাওয়া পরিবর্তন,জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির সংকট এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়াও এর অন্যতম কারণ। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, পাটের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা গেলে তারা আবারও এ ফসলের আবাদ বাড়াতে আগ্রহী হবেন।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন,পাটের বহুমুখী ব্যবহার বৃদ্ধি,আধুনিক প্রযুক্তির প্রসার এবং কৃষকদের জন্য প্রণোদনা বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলে পাট চাষ পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। অন্যথায় প্রতিবছর আবাদ কমতে থাকলে একসময় সৈয়দপুরে পাট চাষ আরও সংকুচিত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে