ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে নিস্কাশনের অভাবে মসজিদের ওজুখানা ল্যাট্রিন প্রস্রাবখানা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের। সমস্যা খাল দখল। দূর্গন্ধ ও কষ্টে অতিষ্ট সহস্রাধিক মুসল্লি। সরাইল সদরের বিকাল বাজার শাহী জামে (হাটখোলা) মসজিদে গত কয়েক বছর ধরে চলছে এ দূরাবস্থা। প্রশাসনসহ বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেও পরিত্রাণ পাচ্ছেন না মুসল্লিরা। তাই শুক্রবার এই জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবীতে প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন মুসল্লিরা। কোন প্রভাবশালী দখলদার সন্ত্রাসী চক্রের কাছে মসজিদের মুসল্লিরা আর জিম্মি হয়ে থাকবেন না।
মসজিদ কমিটি ও ভুক্তভোগি মুসল্লিরা জানায়, গত বছর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসল্লিদের কথা দিয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অজানা কারণে ওই আশ্বাস আজও আলোর মুখ দেখেনি। তাই পঁচা নোংরা পানির দূর্গন্ধ আর সহ্য করতে পারছেন না মুসল্লিরা। এ কারণে ক্রমেই ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছেন তারা। গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে এ বিষয়ে মসজিদে বক্তব্য রাখেন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা কুতুব উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রশাসন কথা দিয়েও মসজিদের পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। কার ইশারায় যেন বারবার ঘুরে যাচ্ছেন। আমরা আর বসে থাকব না। আমরা কোন খাল দখলদারের হুমকি ধমকি সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে ভয় করি না। আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য প্রয়োজনে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করব। উপস্থিত কয়েক শতাধিক মুসল্লি উনার বক্তব্যের সাথে সমস্বরে একমত পোষণ করেন। মসজিদের মুসল্লিরা জানান, মসজিদটির পূর্ব পাশেই রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরের উত্তর পাড়ে মসজিদের জায়গায় রয়েছে ওজুখানা, ল্যাট্রিন ও প্রস্রাবখানা। পুকুরসহ মসজিদের পূর্ব সীমানা ঘেষা দেওয়ান দিঘী। কয়েকশত বছরের পুরাতন এই দিঘী দিয়েই মসজিদের মুসল্লিদের ব্যবহৃত পানি নিস্কাশিত হয়ে আসছে যুগযুগ ধরে। দিঘীর পূর্ব দক্ষিণ কর্ণার দিয়ে বড়দেওয়ান পাড়ার কবরস্থান ঘেষা খাল দিয়ে পানি নিস্কাশন হয়ে নিজসরাইল ব্রীজের নীচের খালে পড়তো। আবার দিঘীর পূর্ব উত্তর কর্ণারে একটি খাল দিয়েও পানি নিস্কাশন হয়ে বড্ডাপাড়া খালে গিয়ে পড়তো। এভাবেই গত কয়েকশত বছর ধরে শাহী জামে মসজিদ, দেওয়ানবাড়ি (সাহেববাড়ি), বিকাল বাজার ও আশাপাশের পানি নিস্কাশন হয়ে আসছে। গত ৫-৬ বছর আগে দিঘীর উভয় দিকের পানি নিস্কাশনের খাল দখল ও ভরাট করে ফেলেছে স্থানীয় এক শ্রেণির প্রভাবশালী দখলদার। পরবর্তীতে আরেক শ্রেণির লোক ফসলি মাঠ থেকে পাইপের সাহায্যে মাটি এনে সরাইল উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় থেকে মাত্র দেড়শত গজ দূরে দেওয়ান দিঘী ভরাট করে ফেলে। দীর্ঘ সময় নিয়ে ভরাট চললেও রহস্যজনক কারণে তখন নীরব ছিল সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তা ও পরিবেশ অধিদপ্তর। আর এভাবেই বন্ধ হয়ে যায় সরাইল সদরের বিশাল অংশের পানি নিস্কাশন ব্যবস্থা। দিঘীর ভরাট করা জায়গার পানিও এখন মসজিদের পুকুরে পড়ে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই মসজিদের পুকুর ভরে পাড় তলিয়ে যায়। তখন ওজুখানা, ল্যাট্রিন ও প্রস্রাবখানায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পুকুরের পানি সাথে প্রস্রাব পায়খানার পানি মিশে দূর্গন্ধ হয়। নাক চেপে মসুল্লিরা খুবই কষ্টে টয়লেটে যাওয়া আসা করেন। ওজু করতেও হিমশিম খান। পুকুরের পানি কমাতে বাধ্য হয়ে রাতের বেলা মেশিনের সাহায্যে পানি রাস্তায় ছেড়ে দিতে হয়। ওই পবিত্র পানির ছিটায় মুসল্লি ও পথচারীদের কাপড় নষ্ট হয়। এ জন্য ফজরের নামাজের মসজিদে আসেন না অনেক মুসল্লি। গত ৩-৪ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ আর কষ্ট পোহাচ্ছেন মুসল্লিরা। গত বছর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসল্লিদের কথা দিয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা ও মসজিদের ওজুখানার উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু কোন অশুভ শক্তির ইশারায় ওই ইউএনও মহোদয় আর কিছুই করেননি। মসজিদ কমিটির একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি বলেন, দুটি খাল উদ্ধার হলেই সমস্যার সমাধান হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে বর্তমান ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলব। কোন সদত্তোর বা সুরাহা না পেলে মুসল্লিদের স্বার্থে প্রয়োজন হলে রাস্তায় নামব।