নিরাপত্তা চেয়ে গতকাল রোববার দুপুরে গজারিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি ভুক্ত করার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আ. বাছেদ (৭৫)। সাধারণ ডায়েরি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের আতিক নগর (চকের পাড়া) এলাকার বাসিন্দা আ. বাছেদের সঙ্গে একই এলাকার মিজানুর রহমান মিঠুন (৩৫), মো. শাহজাহান (৬২), আবদুল মোতালেব (৬৫) ও সাহিদা বেগম (৩৮) গংদের জমি জমা ও বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। উক্ত বিরোধের জেরে গত ১৯ মে স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি সালিস বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন প্রতিপক্ষ মিজানুর রহমান মিঠুন ও মো. শাহজাহান বেপারির ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা আ. বাছেদের ছেলে দুবাই ফেরত হযরত আলীসহ তিনজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা চাকু দিয়ে হযরত আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে রক্তাক্ত জখম করে। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যার প্রেক্ষিতে আহত হযরত আলী'র বাবা আ.বাছেদ বাদী হয়ে গত ২১ মে গজারিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৩২, ধারা- ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৫০৬/১১৪/৩৪ পেনাল কোড)। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা যায়।
ভুক্তভোগী আ. বাছেদ জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিবাদীগণ দলবল নিয়ে আতিক নগর চকের পাড়া এলাকায় তার বসত বাড়িতে চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী শাহিনুর আক্তার ও সোনিয়া আক্তারের উপস্থিতিতে বিবাদীরা মামলা প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দেয়। মামলা প্রত্যাহার না করলে বাছেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করাসহ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বিবাদীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহজাহান বেপারির বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে গজারিয়া থানার ডিউটি অফিসার এসআই আছিয়া আক্তার জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি