কাজ না করে পিরোজপুর এলজিইডি থেকে হাজার কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগে অভিযুক্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ ভান্ডারিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো একটি পত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই অভিনন্দন বার্তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভান্ডারিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সমপাদক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ঠিকাদার মো. মিরাজুল ইসলাম ওই অভিনন্দন বার্তাটি গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডাক গ্রহন ও বিতরণ শাখা গত ২৭ এপ্রিল বার্তাটি গ্রহন করেছে বলে জানা গেছে। তবে এটি কোনো রাজনৈতিক প্যাডে না লিখে মিরাজ তার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল প্রাইভেট লিমিটেড এর অফিসিয়াল প্যাডে লিখে পাঠিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া চিঠিতে দেখা যায়, মিরাজুল ইসলাম গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও সবার আগে বাংলাদেশ স্লোগানের বেশ প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি, গত ১৭ ফেব্রুয়ারী শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব দেশের জনগণের মাঝে আশার সঞ্চার করেছে বলেও তিনি তার বার্তায় উল্লেখ করেন।
চিঠিতে যা লেখা ছিল “ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুই তৃতীয়াংশের বেশি জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হয়ে আপনার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হওয়ায় প্রানঢালা অভিনন্দন জানাই। রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, যুগোপযোগী নির্বাচনী ইশতেহার ও সর্বোপরি "সবার আগে বাংলাদেশ" শ্লোগানে দেশের মানুষের একান্ত মনের কথা ফুটে ওঠার কারণেই দলের এই অসামান্য বিজয়। বাংলার জনগণ আপনাকে ও আপনার দলকে দুহাত উজাড় করে ভালোবাসা দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির প্রধান হিসেবে আপনার এবার জনগণকে দেবার পালা। গত ১৭ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর আপনার রাষ্ট্র নায়োকচিত নেতৃত্ব ইতোমধ্যে দেশের জনগণের কাছে সীমাহীন আশার সঞ্চার করেছে। আশা করছি আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছ থেকে বাংলার জনগণ নিরাশ হবে না।” তিনি তার বার্তার সাথে তার ঠিকাদারী প্রতিষঠানের প্যাডে তার ফেলে রাখা ঠিকাদারী কাজের মেয়াদ বাড়ানোরও অনুরোধ জানান। এ ব্যাপারে মো. মিরাজুল ইসলামের সাথে (হোয়াটস অ্যাপ ০১৭৫২২২২২২২) যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। প্রসঙ্গত এলজিইডি ঠিকাদারী কাজ না করে হাজার কোটি টাকা লোপাট ও পাচারের অভিযোগে মিরাজুল ইসলামসহ তার পরিবার এবং বড় ভাই মহারাজের বিরুদ্ধে দুদক একাধিক মামলা করেছে।