রেলের শহর হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে শত শত একর রেলভূমি। এসব জমিতে গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক স্থাপনা। স্থানীয়দের মতে, বর্তমান বাজারমূল্যে এসব জমির মূল্য কয়েক হাজার কোটি টাকারও বেশি।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুরে অন্তত ৪শ একরের বেশি রেলভূমি অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব জমিতে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি স্থাপনা গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রেলওয়ের বহু কোনীলফামারীয়ার্টার ও আবাসিক ভবনও বেদখল অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় রেলের জমি দখল করে নতুন করে দোকানঘর ও বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সাহেবপাড়া ফুলবাগান এলাকায় রেলের পাম্পহাউসের জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের ঘটনাও সামনে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, রেলওয়ের মূল্যবান জমি রক্ষায় কার্যকর নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান না থাকায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রে মামলা থাকলেও বছরের পর বছর সেগুলোর নিষ্পত্তি হচ্ছে না। ফলে সরকারি সম্পদ উদ্ধারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা কারণে তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রেলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হলে দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত নজরদারি এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা জরুরি। এ বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবৈধ দখলমুক্ত করতে পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং রেলভূমি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।